ঢাকা, ১৪ অক্টোবর (বিডিইকোনমি): নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণ প্রদান, সংসদীয় কমিটিগুলোকে শক্তিশালীকরণ এবং লিঙ্গ সমতা নীতি বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সাথে তাঁর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগস এ কথা জানান।
সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার বলেন, ইউএনডিপি বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং আইনপ্রণেতাদের প্রশিক্ষণ সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারেও সংস্থাটির ইতিবাচক অবদান রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে ইউএনডিপি প্রসেসের পরিদর্শনের বিষয়টি উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, তরুণ প্রজন্ম সাবেক সরকারের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। জেন-জি (Gen Z) একাধিক দেশে স্বৈরাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং তরুণ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধে বাংলাদেশে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটাধিকারের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে উদার ও গণতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে এবং দেশে গণতন্ত্র রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও দেশে এখনও সফল গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব হয়নি। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তিনি স্মরণ করেন।
ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগস বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সাথে ইউএনডিপির অংশীদারিত্ব শুরু হয় এবং সংস্থাটি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন কোর্স ও প্রশিক্ষণ, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং লিঙ্গ সমতা নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা দিতে ইউএনডিপি পুরোপুরি প্রস্তুত।
আলোচনাকালে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে আমলাতান্ত্রিক সংস্কারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ডেপুটি স্পিকার। এ প্রসঙ্গে ইউএনডিপির উপ-আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি প্রার্থীর নৈতিক মূল্যবোধ মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন যে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারা দেশে প্রায় ৩২৫টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে এবং বাস্তবমুখী ও জ্ঞানভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এগুলোর প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন।