ঢাকা, ২৭ অক্টোবর (বিডি ইকোনমি): সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সংকুচিত করতে পারে বলে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট আলোচকরা। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে এই আইন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। “সাইবার সুরক্ষা, না কণ্ঠরোধ? কার স্বার্থে মতপ্রকাশের নতুন সীমা নির্ধারণ ও আইন সংশোধন” শীর্ষক এই সংলাপের যৌথ আয়োজন করে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সাতটি সংগঠন—ভয়েস ফর রিফর্ম, দৃক, নাগরিক কোয়ালিশন, এইচআরএসএস, জেআরএ, ডিএসএ ভিকটিম অ্যালায়েন্স এবং বাংলাদেশ আমেরিকা অ্যালায়েন্স।
আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলমের সভাপতিত্বে এবং ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় সংলাপে অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, গুম কমিশনের সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস, ‘ওয়াদা’ পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ‘অল্টারনেটিভ’-এর সংগঠক ডা. তাজনূভা জাবীন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দিদার ভূঁইয়া, এনসিপির সারোয়ার তুষার, নাগরিক কোয়ালিশনের হাসিব হোসেন এবং এইচআরএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজ ইসলাম।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ফাহিম মাশরুর বলেন, সাইবার আইনের মূল উদ্দেশ্য হ্যাকিং ও আর্থিক প্রতারণা ঠেকানো হলেও, প্রস্তাবিত সংশোধনী আগের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। নারী ও শিশুদের সুরক্ষার বিষয়গুলো সাইবার আইন থেকে আলাদা করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন তিনি।
সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী এই আইনকে সাধারণ নাগরিকের সুরক্ষার পরিবর্তে “সরকার সুরক্ষা আইনে” পরিণত করবে। সাবেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বর্তমান প্রশাসনের কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক নীতির সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকার কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ড. নাবিলা ইদ্রিস জানান, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে সাইবার আইনে যত গ্রেপ্তার হয়েছে, তার বড় অংশই হয়েছে সরকারের শীর্ষ নেতাদের সমালোচনার জেরে, যা কোনোভাবেই আইনসম্মত নয়। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শুধু সংবাদমাধ্যমের জন্য নয়, বরং সব নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপর জোর দেন।
সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে শহিদুল আলম বলেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ, তাই সরকারের উচিত নাগরিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো কান দিয়ে শোনা। পরিশেষে বক্তারা ঐকমত্যে পৌঁছান যে, সাইবার অপরাধ রোধ করা জরুরি হলেও তা যেন কোনোভাবেই সংবিধানপ্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী না হয়।