সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ মৎস্য খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবি: বিলস-এফইএস সংলাপ পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণের দাবি ৩৫ শ্রমিক ফেডারেশনের দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ৬ কার্গো এলএনজি আমদানির সুপারিশ সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির<gwmw style="display:none;"></gwmw> চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৩.৮৯ শতাংশে: আইএমইডি চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছাড়াল ১০.৭২ বিলিয়ন ডলার<gwmw style="display:none;"></gwmw> বৈশ্বিক সাইবার ঝুঁকির মুখে ৩ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে খরচ ইনবাউন্ড লেনদেনের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি: বাংলাদেশ ব্যাংক বৈশ্বিক ও জ্বালানি সংকটের মুখেও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে লড়াই করে যাচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত

মৎস্য খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবি: বিলস-এফইএস সংলাপ

ঢাকা, ২৬ অক্টোবর (বিডি ইকোনমি): বাংলাদেশের মৎস্য খাতের শ্রমিকদের জন্য আইনি সুরক্ষা, শোভন কর্মপরিবেশ এবং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। সোমবার রাজধানী ঢাকার পল্টনে এক জাতীয় সংলাপে বক্তারা এই আহ্বান জানান.

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিল্‌স) এবং ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে হোটেল এশিয়ায় “বাংলাদেশের মৎস্য খাতে শোভন কর্মপরিবেশ: নীতি সুপারিশ ও করণীয়” শীর্ষক এই জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়.

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিল্‌স উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ন্যাশনাল ফিশিং ওয়ার্কার্স ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক নাইমুল আহসান জুয়েল এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মো. মজিবর রহমান. এতে মূল প্রাবন্ধিক ছিলেন বিল্‌স-এর সিনিয়র অফিসার রেজওয়ানুল হক আজম এবং প্রধান বক্তব্য দেন বিল্‌স-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ.

সংলাপে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশ মৎস্য উৎপাদন ও জলজ চাষে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও এ খাতের শ্রমিকরা অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান, অপর্যাপ্ত মজুরি, পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাবের মতো তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন. নিষেধাজ্ঞা চলাকালে আয় বন্ধ থাকা, লিখিত চুক্তির অভাব এবং অনানুষ্ঠানিক দাদন প্রথার কারণে শ্রমিকেরা দীর্ঘস্থায়ী ঋণের জালে আটকে পড়েন. বিশেষ করে নারী ও স্বনিয়োজিত শ্রমিকেরা আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন.

বক্তারা মৎস্য শ্রমিকদের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন:

  • আইডি কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা: সব মৎস্য শ্রমিককে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্রের আওতায় এনে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা.
  • দাদন প্রথার বিলোপ: দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও আয় নিশ্চিত করা.
  • সমন্বিত উদ্যোগ: সরকারি সংস্থা, ট্রেড ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে একটি সমন্বিত সামাজিক সংলাপ কাঠামো গড়ে তোলা.
  • নিরাপত্তা ও নিখোঁজ শ্রমিকদের তালিকা: সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জেলেদের সরকারি তালিকা তৈরি এবং ট্রলারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম, ফার্স্ট এইড ও নারী শ্রমিকদের জন্য মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করা.

সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে স্কপ-এর যুগ্ম আহ্বায়ক এএএম ফয়েজ হোসেন, আইএলও-র সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মাহমুদুল ইসলাম খান, উপকূলীয় অনুসন্ধানী গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন এবং স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন. দেশের মৎস্য খাতের আইনি কাঠামো সংস্কার এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সুনির্দিষ্ট নীতি সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়.