বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
ঋণখেলাপির সংস্কৃতি থেকে ব্যাংক লুটপাট: আর্থিক খাতের দুর্দশার জন্য দায়ী করলেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ পাবনায় কৃষি ও এসএমই উদ্যোক্তাদের ২.৭০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করল ব্যাংকসমূহ অভিবাসী শ্রমিকের সুরক্ষা ও শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের আহ্বান বিএলএস-এফইএস যুব সম্মেলনে সংশোধিত সাইবার আইনে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ না করার আহ্বান—ভয়েস ফর রিফর্মের সংলাপ ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীলকরণে সিস্টেমিক ঝুঁকি ও আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বিআইবিএম-এর কর্মশালা জুলাই-অক্টোবর সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১১.০৪ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম; রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৪১ বিলিয়ন ডলার অস্ট্রেলিয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ, বিএসআরইএর সংবাদ সম্মেলন ২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ মৎস্য খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবি: বিলস-এফইএস সংলাপ

ঋণখেলাপির সংস্কৃতি থেকে ব্যাংক লুটপাট: আর্থিক খাতের দুর্দশার জন্য দায়ী করলেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর (বিডি ইকোনমি): বাংলাদেশের ব্যাংক খাত প্রথমে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি এবং পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালের পর শুরু হওয়া ‘লুটপাটের সংস্কৃতিতে’ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) ক্যাম্পাসে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ব্যাংক খাতের সংস্কারের অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অতীতে নানা নিয়মকানুন তৈরি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হলেও পরবর্তী সময়ে কোনো নিয়ম না মেনে ব্যাংক থেকে সরাসরি অর্থ লুট করে নেওয়ার সংস্কৃতি চালু হয়, যা অত্যন্ত মারাত্মক। ২০১০ সালের পর কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই যত্রতত্র নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়াই ব্যাংকগুলোর এই দেউলিয়াত্বের জন্য দায়ী।

তিনি উল্লেখ করেন, দেউলিয়া হয়ে যাওয়া কিছু ব্যাংক সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, কল্যাণ ও পেনশনের তহবিল থেকেও আমানত গ্রহণ করেছিল, যার ফলে দরিদ্র ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কোটি কোটি টাকার তহবিল এখনো আটকে আছে।

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকারগুলো রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোকে সবসময় অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা বিতরণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। আর্থিক খাতের মাধ্যমে এই রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ হওয়া উচিত, যা রাজনৈতিক নেতাদেরই অনুধাবন করতে হবে। এছাড়া একক কোনো গোষ্ঠী বা পরিবারের একাধিক ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রবণতা রোধ করতে দেশে এখনো কার্যকর ‘অ্যান্টি-ট্রাস্ট’ বা একাধিপত্যবিরোধী আইন না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

বিআইবিএমের এই সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি আবদুল হাই সরকার, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক আব্দৌলায়ে সেক এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার।