ঢাকা, ১৩ অক্টোবর (বিডিইকোনমি): আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (আইওসি) অনুরোধ এবং তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে অফশোর বা গভীর ও অগভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়নের আন্তর্জাতিক দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা চার মাস বাড়িয়েছে পেট্রোবাংলা। এর ফলে দরপত্র জমা দেওয়ার নতুন তারিখ ৩০ নভেম্বর, ২০২৬-এর পরিবর্তে বাড়িয়ে আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বিশ্বের খ্যাতনামা বেশ কিছু আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনা ও তাদের বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডাটা প্যাকেজ সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করায় বিডিং রাউন্ডে বৈশ্বিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ ও অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে দেশের সমুদ্র অঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর আওতায় ১৫টি গভীর সমুদ্রের ব্লক এবং ১১টি অগভীর সমুদ্রের ব্লকের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়, যার প্রতিটি ডকুমেন্ট ৭ হাজার ডলারে নির্ধারিত রয়েছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, বিডাররা চাইলে নির্দিষ্ট কোনো ব্লকের পাশাপাশি পুরো অফশোর অঞ্চলের জন্যও প্রস্তাব জমা দিতে পারছেন। ইতিমধ্যে তুর্কি পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (টিপিএও) এবং চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল কর্পোরেশন (সিএনওওসি)-সহ ৩টি প্রধান প্রতিষ্ঠান দরপত্র সংগ্রহ করেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে আহ্বান করা দরপত্র প্রক্রিয়ায় এক্সনমোবিলসহ ৭টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি নথি কিনলেও রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অন্যান্য কারণে শেষ পর্যন্ত কেউ বিড জমা না দেওয়ায় সেই রাউন্ড বাতিল করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি)-এ বেশ কিছু যুগান্তকারী সংশোধন আনা হয়। যার মধ্যে রয়েছে—গভীর সমুদ্র থেকে মূল ভূখণ্ডে পাইপলাইন খরচ কমানো, ডব্লিউপিপিএফ (WPPF) এর অংশ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১.৫ শতাংশ করা এবং গভীর সমুদ্রে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ১১ ডলার ও অগভীরে ১০.৫০ ডলারে নির্ধারণ করা।
খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ২০১২ ও ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা জয়ের পর প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি সমুদ্র অঞ্চলের মালিকানা পেলেও দীর্ঘ সময় ধরে কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট হলেও দেশীয় উৎপাদন কমে ১,৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট নেমে আসায় প্রায় ১,৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি তৈরি হয়েছে। নতুন সংশোধিত শর্তাবলি এবং বর্ধিত এই সময়সীমা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে চলমান জ্বালানি সংকট নিরসন এবং শিল্পায়নের গতি ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।