বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্য বাড়াতে খাল ও নৌপথ পুনরুজ্জীবনের তাগিদ ডিসিসিআইয়ের কর ফাঁকি রোধ ও স্বচ্ছতা বাড়াতে একক করদাতা সনাক্তকরণ নম্বরের সুপারিশ আইএমএফের চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যেই নোয়াখালীতে বাপেক্সের নতুন কূপ খনন শুরু ৩ মাস পর ইতিবাচক ধারায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিনিয়োগ তিন শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ-দ্বীন হাসপাতাল বৃষ্টির অজুহাতে ঢাকার বাজারে কাঁচামরিচের দাম হু হু করে বাড়ছে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে বিনিয়োগে জোর সরকারের: শামা ওবায়েদ এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে সরবরাহ তলানিতে: গভীর হচ্ছে গ্যাস সংকট, বাসাবাড়িতে হাহাকার অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৭ হাজার: বাংলাদেশ ব্যাংক

কর ফাঁকি রোধ ও স্বচ্ছতা বাড়াতে একক করদাতা সনাক্তকরণ নম্বরের সুপারিশ আইএমএফের

ঢাকা, ২৯ জুলাই (বিডিইকোনমি ডটনেট)- বাংলাদেশের রাজস্ব প্রশাসনে বড় ধরনের সংস্কারের সুপারিশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। কর ফাঁকি রোধ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব কার্যক্রমে গতি আনতে আয়কর ও ভ্যাটের জন্য আলাদা সনাক্তকরণ নম্বরের পরিবর্তে একটি ‘একক করদাতা সনাক্তকরণ নম্বর’ (সিঙ্গেল টিআইএন) চালুর প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা চালু হলে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়কর, ভ্যাট, কাস্টমস, আমদানি-রপ্তানি, উৎসে কর কর্তন এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক তথ্যাদি একটি একক প্ল্যাটফর্ম থেকে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ উর্ধ্বতন রাজস্ব কর্মকর্তাদের সাথে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের এক বিশেষ বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। বর্তমানে আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভা পেট্রোভার (ইভো ক্রোজনার) নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধানী দল রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার, কর আদায় বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক আধুনিকায়ন নিয়ে সিরিজ বৈঠক করতে বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

আলাদা ডাটাবেজ ও বর্তমান সীমাবদ্ধতা:

বর্তমানে বাংলাদেশে আয়করদাতাদের জন্য ইলেকট্রনিক ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ই-টিআইএন) এবং ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিন) পৃথকভাবে ব্যবহৃত হয়। আইএমএফ মনে করে, দুটি ভিন্ন নম্বর থাকায় করদাতাদের তথ্য বিভিন্ন ডাটাবেজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। ফলে কোনো করদাতার সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া বা কার্যকরভাবে তা বিশ্লেষণ করা এনবিআরের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

সংস্থাটি জানায়, একক সনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু হলে আয়কর রিটার্ন, ভ্যাট রিটার্ন, আমদানি-রপ্তানি তথ্য, উৎসে কর, ব্যাংকিং লেনদেনসহ রাজস্ব সংক্রান্ত সব তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে চলে আসবে। এতে ঝুঁকিভিত্তিক অডিট (Risk-based Audit) পরিচালনা এবং কর ফাঁকি দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হবে।

অন্যান্য সরকারি সংস্থার সাথে অটোমেশন:

রাজস্ব সংস্কারের অংশ হিসেবে আইএমএফ এনবিআরের ডাটাবেজকে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজের সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত করার তাগিদ দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি), বাংলাদেশ ব্যাংক, ভূমি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর, কাস্টমস এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উল্লেখযোগ্য।

আইএমএফের মতে, ভারত (প্যান), নেপাল (প্যান), হংকং (বিআরএন), সিঙ্গাপুর (ইউইএন), অস্ট্রেলিয়া (এবিএন) এবং নিউজিল্যান্ডের (আইআরডি) মতো দেশগুলোতে ইতিমধ্যেই সফলভাবে একক করদাতা সনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও এনবিআরের বক্তব্য:

এ সুপারিশ সম্পর্কে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “একক করদাতা সনাক্তকরণ নম্বর চালুর পদক্ষেপ রাজস্ব প্রশাসন ও করদাতা—উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে। নিবন্ধীকরণ, উৎসে কর, ব্যবসার পরিধি ও আয়করের তথ্য এক ছাতার নিচে আসলে এনবিআরের সমন্বয় দক্ষতা বাড়বে, কর ফাঁকির সুযোগ কমবে এবং করদাতাদের জন্য সেবা নেওয়া সহজ হবে।”

এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনায় অটোমেশন ও অটোমেটেড ডাটা ইন্টারঅ্যাকশন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তবে ২০০৫ সাল থেকেই আইএমএফ এই সুপারিশ করে আসলেও বর্তমান বাস্তবতায় এটি হুট করে বাস্তবায়ন করা চ্যালেঞ্জিং। এনবিআরের মতে, একক নম্বর চালুর আগে আয়কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানো, ডাটাবেজগুলোর পরিপূর্ণ একীকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো শক্তিশালী করা আবশ্যক।