ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর (বিডিইকোনমি) : চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) ব্যাংকিং খাতের সাব-ব্রাঞ্চ বা উপশাখাগুলোর মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ ৫.৭ শতাংশ বেড়ে ৮৪,২৬৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। মার্চ শেষে যা ছিল ৭৯,৭১৭ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘শিডিউলড ব্যাংকস সাব-ব্রাঞ্চ স্ট্যাটিস্টিকস (এপ্রিল-জুন ২০২৬)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পর্যালোচনাধীন সময়ে পুরো ব্যাংকিং খাতের সার্বিক আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ২.৪ শতাংশ, যার বিপরীতে সাব-ব্রাঞ্চ বা উপশাখাগুলোতে আমানত সংগ্রহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.৭ শতাংশ। অর্থাৎ, মূল ব্যাংকিং খাতের তুলনায় উপশাখাগুলোতে আমানত সংগ্রহের গতি দ্বিগুণেরও বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট ব্যাংকিং আমানতে উপশাখাগুলোর অংশ দাঁড়িয়েছে ৩.৮ শতাংশে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৩.৭ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রামীণ সাব-ব্রাঞ্চগুলো থেকে সংগৃহীত আমানতের হার কিছুটা বেড়ে ৩৩.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। উপশাখায় মোট আমানত হিসাবের সংখ্যা ৫.৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ লাখ ৬৯,১৯৮টিতে। এতে নারী আমানতকারীর হিসাবের হার সামান্য বেড়ে ৩৮.৪ শতাংশ হলেও মোট আমানত মূলধনে নারীদের অংশ ২৬.২ শতাংশ থেকে কিছুটা কমে ২৫.৯ শতাংশে নেমেছে।

আমানত বাড়লেও একই সময়ে উপশাখাগুলোর মাধ্যমে ঋণ বিতরণে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। জুন শেষে সাব-ব্রাঞ্চ থেকে বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০,৬০২ কোটি টাকা, যা মার্চ প্রান্তিকের (২২,৩০৯ কোটি টাকা) তুলনায় ৭.৭ শতাংশ কম। যদিও এ সময়ে পুরো ব্যাংকিং খাতে সার্বিক ঋণ বিতরণ ১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের মোট বকেয়া ঋণের ১.১ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে উপশাখাগুলোর মাধ্যমে। তবে শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামে ঋণ বিতরণের হার কিছুটা বেড়েছে। উপশাখা থেকে দেওয়া মোট ঋণের ৩৫.৮ শতাংশই বিতরণ করা হয়েছে গ্রামীণ এলাকায়, যা মার্চে ছিল ৩১.৮ শতাংশ। এছাড়া ঋণে নারীদের অংশ ১৪.০ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪.৭ শতাংশ হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে সারাদেশে ৩০টি নতুন গ্রামীণ উপশাখা এবং ১৯টি নতুন নগর উপশাখা চালু হয়েছে। অন্যদিকে কার্যক্রম পর্যালোচনা করে ৮টি উপশাখা অন্য শাখা বা উপশাখার সঙ্গে একীভূত বা বন্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জুনের শেষে ৫০টি তপশিলি ব্যাংকের পরিচালিত সাব-ব্রাঞ্চের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৫,০৩৩টিতে, যার মধ্যে ৪৯.৫ শতাংশই গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত।
জেলাভিত্তিক হিসেবে দেশে সবচেয়ে বেশি ১,০০৭টি সাব-ব্রাঞ্চ রয়েছে ঢাকা জেলায়। এছাড়া চট্টগ্রামে ৪৭০টি, কুমিল্লায় ২১৮টি, নারায়ণগঞ্জে ১৭০টি এবং গাজীপুরে ১৬৮টি সাব-ব্রাঞ্চ রয়েছে।
একক ব্যাংক হিসেবে সর্বাধিক ১,২২৪টি উপশাখা নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮৮টি সাব-ব্রাঞ্চ রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির, ৩৫০টি নিয়ে তৃতীয় স্থানে ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি, ২৮১টি নিয়ে পূবালী ব্যাংক পিএলসি এবং ২৭১টি উপশাখা পরিচালনা করছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।