মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
US cotton warehouse to launch in Chattogram in mid-November to boost bilateral trade তা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তীব্র আপত্তি<gwmw style="display:none;"></gwmw> রাজধানীতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ১১তম ‘বাপা ফুডপ্রো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ২০২৪’ ‘ওয়ান বাই মেটলাইফ’ অ্যাপে গ্রাহকদের জন্য নতুন ৪ ফিচার যুক্ত ২০২৮ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্য: ডিএসই ঋণের জামানত মূল্যায়নে ১৩১ প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্য অর্থায়ন বাড়াতে সিটি ব্যাংকে আইটিএফসির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকা ইপিজেডে দুটি আধুনিক ওয়েব্রিজ উদ্বোধন করলেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা ফেরত শুরু সোমবার থেকে

তা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তীব্র আপত্তি

ঢাকা, ০৮ সেপ্টেম্বর — ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহারের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্যমন্ত্রীকে দেওয়া এক যৌথ চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। চিঠির অনুলিপি বাণিজ্য সচিব এবং এনবিআর চেয়ারম্যানকেও পাঠানো হয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারা অনুযায়ী এনবিআরের জারি করা এক আদেশে ৫২০৫, ৫২০৬ এবং ৫২০৭ এইচএস কোডের ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল করা হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রকৃত রপ্তানিকারকদের এখন থেকে শতভাগ শুল্ক ও করের সমপরিমাণ অসংকোচহীন ও ধারাবাহিক ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিয়ে এই সুতা আমদানি করতে হবে। পরবর্তীতে রপ্তানি কার্যক্রম যাচাই সাপেক্ষে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ ওই ব্যাংক গ্যারান্টি মুক্ত করবে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত যৌথ চিঠিতে বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। তারা জানান, ওই বৈঠকে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। কিন্তু বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বন্ড সুবিধা বাতিল সংক্রান্ত ৫(ক) ধারা এবং স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে অন্তত ৫০ শতাংশ সুতা সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত ৫(খ) ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা মূল আলোচনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও ভিত্তিহীন।

এনবিআরের এই সিদ্ধান্তকে “অবাস্তব ও আত্মঘাতী” আখ্যা দিয়ে পোশাক খাতের নেতারা সতর্ক করে বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত গভীর সংকটে পড়বে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিনের বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে দেশের পোশাক শিল্প গড়ে উঠেছে। হঠাৎ করে এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে একটি নেতিবাচক বার্তা যাবে এবং যখন প্রতিযোগী দেশগুলো আরও বেশি সুবিধা বাড়াচ্ছে, তখন আমাদের রপ্তানি খাতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।

বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে সংগঠন দুটি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যাদেশ কম থাকায় সুতার সার্বিক চাহিদা কম থাকা সত্ত্বেও দেশীয় বাজারে এর দাম ক্রমেই বাড়ছে। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী স্থানীয় বাজারে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে কি না, চিঠিতে সে প্রশ্নও তোলা হয়।

নেতারা আরও জানান, চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো বর্তমানে তাদের মোট সক্ষমতার ৫০ শতাংশের কম উৎপাদন করছে। ফলে পোশাক শিল্পের মোট সুতার চাহিদা একা স্থানীয় সরবরাহকারীদের পক্ষে মেটানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

এমতাবস্থায়, ৫(ক) এবং ৫(খ) ধারা দুটি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে বিষয়টি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সমন্বয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের এই শীর্ষ দুই সংগঠন।