বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
বিবিসিসিআই’র ডিরেক্টর নির্বাচিত হলেন জহিরুল ইসলাম, আজীবন সদস্য পদ পেলেন কিবরিয়া ও মোর্তুজা<gwmw style="display:none;"></gwmw> দ্বিতীয় প্রান্তিকে সাব-ব্রাঞ্চে আমানত বেড়ে ৮৪,২৬৩ কোটি টাকা, ঋণ বিতরণ কমেছে ৭.৭ শতাংশ<gwmw style="display:none;"></gwmw> US cotton warehouse to launch in Chattogram in mid-November to boost bilateral trade তা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তীব্র আপত্তি<gwmw style="display:none;"></gwmw> রাজধানীতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ১১তম ‘বাপা ফুডপ্রো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ২০২৪’ ‘ওয়ান বাই মেটলাইফ’ অ্যাপে গ্রাহকদের জন্য নতুন ৪ ফিচার যুক্ত ২০২৮ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্য: ডিএসই ঋণের জামানত মূল্যায়নে ১৩১ প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্য অর্থায়ন বাড়াতে সিটি ব্যাংকে আইটিএফসির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল

চিরবিদায় নিলেন ‘আপসহীন নেত্রী’ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ আজ সকাল সোয়া সাতটার দিকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁকে ফোন করে বলেন, ‘আম্মা আর নেই।’ মৃত্যুকালে তাঁর পাশে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গৃহবধূ থেকে রাজনীতির ‘ঐক্যের প্রতীক’

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ছিল প্রায় ৪৩ বছরের। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর এক বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। রাজনীতিতে আসার ১০ বছরের মধ্যেই তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী দীর্ঘ ৯ বছরের আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তাঁকে ‘আপসহীন নেত্রী’র পরিচিতি এনে দেয়। গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি যেভাবে একটি পুরুষশাসিত সমাজে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা সমকালীন ইতিহাসে বিরল। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে এক ‘ঐক্যের প্রতীক’ হিসেবে গণ্য হন।

লড়াই ও সংগ্রামের জীবন

খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ছিল কণ্টকাকীর্ণ। ২০০৭ সালের এক-এগারোর সময় চরম চাপের মুখেও তিনি দেশ ছাড়তে রাজি হননি। সে সময় তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেছিলেন, “দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, এই দেশ ও মাটিই আমার সবকিছু।” পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে তাঁকে তাঁর দীর্ঘ ২৮ বছরের বসতবাড়ি (ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি) থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ২০১৫ সালে গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় তিনি তাঁর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর সংবাদ পান। তবুও তিনি মনোবল হারাননি। তিনি সবসময় বলতেন, “দেশবাসীই আমার স্বজন।”

সমঝোতা ও সহিষ্ণুতার রাজনীতি

আন্দোলনে কঠোর হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় খালেদা জিয়া ছিলেন পরমতসহিষ্ণু। তিনি ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনে এবং পরবর্তীতে জনদাবির মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া দেশে জোটবদ্ধ রাজনীতির সফল প্রয়োগও তাঁর হাত ধরে পূর্ণতা পায়।

শেষ বার্তা: শান্তি ও ভালোবাসার সমাজ

গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর কারামুক্ত হয়ে তিনি তরুণদের উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, “আসুন, ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়; ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলি।” তাঁর এই বক্তব্য জাতির মনে গভীর রেখাপাত করেছে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।