ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর (বিডিইকোনমি): আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা সত্ত্বেও দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাসের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। পেট্রোবাংলার দৈনিক পরিচালন তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট গ্যাস সরবরাহ রেকর্ড করা হয়েছে ২,৬১৯ এমএমসিএফডি।
জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা মোট গ্যাসের মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে এসেছে ১,৬০৩ এমএমসিএফডি। অন্যদিকে জ্বালানি ঘাটতি সামাল দিতে পুনরায় গ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (আরএলএনজি) থেকে যোগ হয়েছে ১,০১৬ এমএমসিএফডি।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থানরত এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিট গ্রুপের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) দৈনিক মোট পুনর্গঠন বা রি-গ্যাসফিকেশন সক্ষমতা প্রায় ১,১০০ এমএমসিএফডি। বর্তমানে সেখান থেকে ১,০১৬ এমএমসিএফডি সরবরাহ আসা ইঙ্গিত দেয় যে টার্মিনাল দুটি তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতার কাছাকাছি থেকে পরিচালিত হচ্ছে।
আরএলএনজি থেকে ১,০০০ এমএমসিএফডির বেশি সরবরাহ পাওয়া সত্ত্বেও দেশে মোট গ্যাস প্রাপ্তি ২,৬১৯ এমএমসিএফডি, যা দেশের মোট আনুমানিক চাহিদা (৩,৮০০ থেকে ৪,০০০ এমএমসিএফডি)-র তুলনায় অনেক কম। ফলে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক ১,২০০ থেকে ১,৪০০ এমএমসিএফডির বিপুল ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেভরন পরিচালিত বিবিিয়ানা ক্ষেত্রসহ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিজিএফসিএল, এসজিএফএল ও বাপেক্সের প্রধান প্রধান দেশীয় ক্ষেত্রগুলোতে প্রাকৃতিক মজুত ধীরে ধীরে কমে আসছে। ফলে স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অধীনে এলএনজি আমদানির ওপর বাংলাদেশের কাঠামোগত নির্ভরতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরবরাহ জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং শিল্প উৎপাদন চালু রাখতে সাহায্য করলেও বিদ্যমান ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার বাড়াতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি সার কারখানা ও তৈরি পোশাক খাতের ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।