নিজস্ব প্রতিবেদক, এপ্রিল ২৪, ঢাকা: সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিসহ গত দুই দশকের শিল্প দুর্ঘটনার ভয়াবহতা ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র নিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী এক আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর উদ্যোগে “তবুও অটল: বাংলাদেশের শিল্প বিপর্যয়, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও স্মৃতির মূল্য” শীর্ষক এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ৫ নং গ্যালারিতে আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির মতো বড় দুর্ঘটনাগুলো আমাদের শিল্পখাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতিকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। গত এক দশকে পোশাক খাতে কর্মপরিবেশের উন্নয়নে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও এখনও কাঠামোগত দুর্বলতা, অপর্যাপ্ত মনিটরিং এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবের মতো বড় চ্যালেঞ্জগুলো বিদ্যমান রয়েছে।

ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার তার বক্তব্যে বলেন, শিল্প দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত নিরাপত্তা কাঠামো বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
আইএলও-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন নিরাপদ কর্মক্ষেত্রকে শ্রমিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, টেকসই পরিবর্তনের জন্য সরকার, মালিকপক্ষ এবং ট্রেড ইউনিয়নসহ সকল অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। বিশেষ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিল্পায়নের অগ্রগতির আড়ালে থাকা শ্রমিকদের বেদনা ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পগুলো নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। এটি তাদের আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, বিলস, স্কপ এবং বিভিন্ন জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা।
প্রদর্শনীতে গত ২০ বছরে শিল্প দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি, স্বজন হারানোর বেদনা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ের বিভিন্ন মুহূর্ত আলোকচিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।