মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ৪১২ কোটি ডলার: উপদেষ্টা তিতুমীর সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করল সরকার নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ: ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ ছাড়িয়েছে ১৪,৫১৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত সার্কুলার জারি গবেষণা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান: এইউএসটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শুরু ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ, মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

ডায়াবেটিস রোগীদের চোখের সমস্যা একটি গুরুতর বিষয়

ডায়াবেটিস রোগীদের চোখের সমস্যা একটি গুরুতর বিষয়, কারণ ডায়াবেটিস চোখের বিভিন্ন অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, বিশেষত ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নামক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও ডায়াবেটিস রোগীদের গ্লুকোমা, ক্যাটারাক্ট এবং ম্যাকুলার ইডিমা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

ডায়াবেটিসের কারণে চোখের প্রধান সমস্যাগুলো:

  1. ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি
  • রেটিনার রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে রক্তপাত, ফোলাভাব বা নতুন অস্বাভাবিক রক্তনালি তৈরি হতে পারে।
  • প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে, কিন্তু পরবর্তীতে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে।
  • চিকিৎসা না করালে অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে।
  1. ডায়াবেটিক ম্যাকুলার ইডিমা
  • রেটিনার কেন্দ্রীয় অংশ (ম্যাকুলা) ফুলে যায়, ফলে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা বা বিকৃত হয়ে যায়।
  1. গ্লুকোমা
  • ডায়াবেটিস রোগীদের গ্লুকোমা হওয়ার ঝুঁকি বেশি। চোখের চাপ বেড়ে গিয়ে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  1. ক্যাটারাক্ট (ছানি)
  • ডায়াবেটিস রোগীদের কম বয়সেই ছানি পড়তে পারে, যার ফলে দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে যায়।

চিকিৎসা পদ্ধতি:

  • নিয়মিত চোখের পরীক্ষা: ডায়াবেটিস রোগীদের বছরে অন্তত একবার ডাইলেটেড আই একজামিনেশন (রেটিনা পরীক্ষা) করানো উচিত।
  • লেজার থেরাপি (ফোকাল/স্ক্যাটার লেজার): রেটিনোপ্যাথির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যাতে রক্তনালির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • অ্যান্টি-VEGF ইঞ্জেকশন (আভাস্টিন, লুসেন্টিস): ম্যাকুলার ইডিমা কমাতে ইন্ট্রাভিট্রিয়াল ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়।
  • ভিট্রেক্টমি সার্জারি: রেটিনায় রক্তক্ষরণ বা স্কার টিস্যু থাকলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।
  • গ্লুকোমা ও ক্যাটারাক্টের চিকিৎসা: প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, লেজার বা সার্জারি করা হয়।

প্রতিরোধের উপায়:

  • রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন (HbA1c <7%)
  • রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করুন
  • ধূমপান ত্যাগ করুন
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন

ডায়াবেটিস রোগীদের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় নিয়মিত চোখের স্ক্রিনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের দৃষ্টি সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের (রেটিনা বিশেষজ্ঞ) পরামর্শ নিন।

আরও পড়ুন