মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ মৎস্য খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবি: বিলস-এফইএস সংলাপ পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণের দাবি ৩৫ শ্রমিক ফেডারেশনের দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ৬ কার্গো এলএনজি আমদানির সুপারিশ সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির<gwmw style="display:none;"></gwmw> চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৩.৮৯ শতাংশে: আইএমইডি চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছাড়াল ১০.৭২ বিলিয়ন ডলার<gwmw style="display:none;"></gwmw> বৈশ্বিক সাইবার ঝুঁকির মুখে ৩ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে খরচ ইনবাউন্ড লেনদেনের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি: বাংলাদেশ ব্যাংক বৈশ্বিক ও জ্বালানি সংকটের মুখেও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে লড়াই করে যাচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত

বৃষ্টির অজুহাতে ঢাকার বাজারে কাঁচামরিচের দাম হু হু করে বাড়ছে

ঢাকা, ২৭ জুলাই (বিডিইকোনমি):টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির অজুহাতে রাজধানীর কিচেন মার্কেটগুলোতে আবারও হু হু করে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। মাত্র চার থেকে পাঁচ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা দরে।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও কলোনি মার্কেট ও মগবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে কাঁচামরিচের মূল্যে এই তীব্র ঊর্ধ্বগতি ও দরবৈষম্য দেখা গেছে।

এলাকাভিত্তিক খুচরা বাজার যেমন— মগবাজার ও তেজগাঁও কলোনি মার্কেটে ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। অন্যদিকে, পাইকারি ও খুচরা একত্রে কেনাবেচা হওয়া কারওয়ান বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা মাত্র পাঁচ দিন আগেও ছিল ২০০ থেকে ২৪০ টাকা।

বাজারের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত এক মাসের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। মাসখানেক আগেও রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছিল ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে।

ব্যবসায়ীরা এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অতিবৃষ্টি ও স্থানীয় বন্যাকে দায়ী করছেন। তাদের দাবি, বৃষ্টির পানিতে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হচ্ছে, যা পাইকারি সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করেছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী কাউসার উদ্দিন সামগ্রিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, “মানিকগঞ্জের মতো প্রধান প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রগুলো থেকে মরিচ আসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন মূলত কুষ্টিয়া, খুলনা, ঝিনাইদহ ও রাজশাহী অঞ্চলের মরিচের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বৃষ্টির কারণে ওই সব অঞ্চলেও গাছের শেকড় পচে গেছে এবং ফুল ঝরে গেছে। ফলে মোকামগুলোতেই তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। যেখানে আগে প্রতিদিন গড়ে ১০ ট্রাক মরিচ আসত, এখন আসছে ৮ ট্রাক। ফলে সরবরাহে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। তাছাড়া ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে যেভাবে কাঁচামরিচ আমদানি হওয়ার কথা ছিল, তা-ও এখনো শুরু হয়নি।”

আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কিংবা নতুন করে আমদানি শুরু না হলে বাজারে কাঁচামরিচের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে সতর্ক করেছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে ব্যবসায়ীদের এই যুক্তি মানতে নারাজ সাধারণ ভোক্তারা। তাদের মতে, বৃষ্টির অজুহাত তুলে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে। অসাধু চক্রের এই কারসাজি রুখতে সরকারি সংস্থাগুলোকে নিয়মিত বাজার তদারকি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।