শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৫ শতাংশ হতে পারে: আইএমএফ<gwmw style="display:none;"></gwmw> আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা ইপিজেডে শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রম ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করলেন আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আদালতের আদেশে বিএফআইইউর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪% পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী সৌদি আরব পুরনো মালিকদের হাতে ফিরল আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক<gwmw style="display:none;"></gwmw> গভর্নরের সাথে বিটিএমএ-র বৈঠক: বস্ত্র খাতের সংকট মোকাবিলায় নীতিগত সহায়তার দাবি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধির সভাপতিত্বে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব: ২০২৫ সালের গ্লোবাল সার্ভেতে ইতিবাচক প্রতিফলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৫ সালের বৈশ্বিক অস্থিরতা ও পরিবর্তনের মাঝেও বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতিতে চীনের প্রভাব আরও সুসংহত ও ইতিবাচক হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক ‘২০২৫ গ্লোবাল সার্ভে অন ইমপ্রেশন অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিং অফ চায়না’ শীর্ষক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আগামী ১০ বছরে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা নিয়ে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।

বিশেষ করে চীনা সংস্কৃতি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বিশ্ব শাসনে (Global Governance) চীনের সংস্কারমূলক ভূমিকার প্রতি বিশ্ববাসীর প্রবল আগ্রহ ও প্রত্যাশা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

‘আত্মবিশ্বাস’ ও ‘স্থিতিস্থাপকতা’: চীনের অগ্রযাত্রার মূলমন্ত্র আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা চীনের বর্তমান অবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে ‘আত্মবিশ্বাস’, ‘ধৈর্য’ এবং ‘স্থিতিস্থাপকতা’—এই তিনটি শব্দ ব্যবহার করছেন। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্য শুল্কের (Tariff Tsunami) অপ্রত্যাশিত ধাক্কা সত্ত্বেও চীন তার অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। চলতি বছরে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি গত তিন প্রান্তিকে ৫.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং দেশটির মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন প্রায় ১৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিতে বিশ্বনেতৃত্ব জরিপ ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীন প্রথমবারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ১০টি উদ্ভাবনী অর্থনীতির একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা এআই প্যাটেন্টের ক্ষেত্রে এককভাবে বিশ্বের মোট প্যাটেন্টের ৬০ শতাংশই এখন চীনের দখলে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা অর্জনই চীনকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।

চীন-মার্কিন সম্পর্ক ও বিশ্ব শান্তি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বের বৃহত্তম উন্নত দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চীনের নিজস্ব উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বিশ্বশান্তির জন্য অপরিহার্য। চীন বারবার স্পষ্ট করেছে যে, কাউকে চ্যালেঞ্জ করা বা কারো স্থলাভিষিক্ত হওয়া তাদের লক্ষ্য নয়। বরং নিজেদের উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের সুফল বিশ্বের সাথে ভাগ করে নেওয়াই তাদের মূল নীতি। আগামী দশকে চীনের মধ্যম আয়ের জনসংখ্যা ৮০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে, যা বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে গতিশীল ভোক্তা বাজারে পরিণত হবে।

উপসংহার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং বৃহত্তম ম্যানুফ্যাকচারিং দেশ হিসেবে চীন তার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবিচল। বহির্বিশ্বের পরিবর্তন যাই হোক না কেন, চীন উচ্চমানের উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে প্রতিবেদনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।