সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে টাকা: বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ১৪তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাচ্ছে খানাপিনার অভ্যাস, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: গবেষণা কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এসডিজি অর্জনে গতি বৃদ্ধি ও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার দাবি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো তিতাস-২৮ কূপের গ্যাস, দৈনিক মিলবে ১২-১৩ এমএমসিএফডি বিজিএমইএ কাপ ২০২৬-এর ট্রফি উন্মোচন ও বাফুফে অংশীদারিত্ব উদযাপন বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরুজ্জীবনে ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ ইইউতে কমেছে পোশাক আমদানি, তবে জুন ও জুলাইয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি

জুলাই-ফেব্রুয়ারি মেয়াদে রপ্তানি আয় ৩১.৯১ বিলিয়ন ডলার; কমেছে ৩.৯৭ শতাংশ

# ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি ১২.০৩ শতাংশ কমে ৩.৯৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বৈশ্বিক বাণিজ্যের মন্দাভাবের মধ্যেও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় ৩১.৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

তবে একক মাস হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২.০৩ শতাংশ কমে ৩.৯৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৪.৪১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ের তুলনায় (৩২.৯২ বিলিয়ন ডলার) চলতি অর্থবছরের আট মাসে রপ্তানি আয়ে ৩.১৫ শতাংশের সামান্য ঘাটতি দেখা গেছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা এই সামান্য সংকোচনকে অভ্যন্তরীণ বন্দরে জটিলতা, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন এবং প্রধান বাজারগুলোতে বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাসের মতো সাময়িক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

দেশের রপ্তানি অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ২৫.৭৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩.৭৩ শতাংশ কম। পোশাক খাতের মধ্যে নিটওয়্যার পণ্য ওভেন গার্মেন্টসের তুলনায় এগিয়ে থেকে আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।

সামগ্রিক আয়ে সামান্য পতন হলেও বেশ কিছু অপ্রচলিত খাত ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা রপ্তানি ঝুড়ি বহুমুখীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হালকা প্রকৌশল এবং হিমায়িত মাছের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

বাজারের দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের বৃহত্তম গন্তব্য হিসেবে বহাল রয়েছে। দেশটিতে ৫.৮৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা ০.৭৪ শতাংশের সামান্য প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।

তবে প্রধান গন্তব্যগুলোর মধ্যে চীন সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দেশটিতে রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ১৯.১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে সামান্য পতন সত্ত্বেও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবেশের মুখে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জটিলতা মোকাবিলা করার মতো সক্ষমতা ও স্থিতিশীল পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে।


একনজরে রপ্তানি চিত্র (জুলাই-ফেব্রুয়ারি ২০২৫-২৬):

খাত/বিবরণউপাত্তপরিবর্তন (YoY)
মোট রপ্তানি আয়৩১.৯১ বিলিয়ন ডলার-৩.৯৭%
ফেব্রুয়ারি মাসের আয়৩.৯৭ বিলিয়ন ডলার-১২.০৩%
তৈরি পোশাক (RMG)২৫.৭৯ বিলিয়ন ডলার-৩.৭৩%
শীর্ষ বাজার (যুক্তরাষ্ট্র)৫.৮৭ বিলিয়ন ডলার+০.৭৪%
সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি (চীন)১৯.১২% বৃদ্ধি