বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ৪১২ কোটি ডলার: উপদেষ্টা তিতুমীর সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করল সরকার নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ: ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ ছাড়িয়েছে ১৪,৫১৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত সার্কুলার জারি গবেষণা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান: এইউএসটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শুরু ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ, মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

আইএমএফের কাছে নতুন করে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

ঢাকা, ৩ জুন (বিডিইকোনমি ডটনেট) — বাংলাদেশের চলমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন করে আর্থিক সহায়তার আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে বাংলাদেশ। বুধবার বৈশ্বিক এই ঋণদাতা সংস্থাটি এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার জানান, বাংলাদেশের নতুন এই ঋণের অনুরোধকে কেন্দ্র করে দেশটির নীতিগত অগ্রাধিকার ও কাঠামোগত সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মিশন প্রধান উল্লেখ করেন, “২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির আওতায় এক্সটেন্ডেড ক্রেডিটফ্যাসিলিটি (ইসিএফ), এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বা পলিসি অ্যানকর হিসেবে কাজ করেছে।”

তবে আইএমএফ জোর দিয়ে বলেছে যে, ২০২৩ সালের কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং রাজস্ব আহরণের দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি সবচেয়ে বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি

আইএমএফের ইঙ্গিত অনুযায়ী, সম্ভাব্য নতুন এই ঋণ কর্মসূচির আলোচনা মূলত দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং নতুন সরকারের কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলোকে বিবেচনায় রেখেই সাজানো হচ্ছে।

তবে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক ঋণদাতা সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেকোনো নতুন ঋণ সুবিধা বা ক্রেডিট প্যাকেজ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য (বিওপি)-র প্রকৃত চাহিদা, শক্তিশালী নীতিগত প্রতিশ্রুতি এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির নির্ভরযোগ্যতার ওপর। আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার পর আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে এই ঋণ অনুমোদন করা হবে।

নতুন এই কর্মসূচির প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করতে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল শীঘ্রই ঢাকা সফর করার পরিকল্পনা করছে। এই ‘স্টাফ ভিজিট’-এর মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা, নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মূল্যায়ন করা। এরপর পরবর্তী আনুষ্ঠানিক মিশনগুলোতে নতুন ঋণের মোট পরিমাণ, কিস্তির সংখ্যা এবং শর্তাবলীর বিস্তারিত বিষয়াদি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।

বাংলাদেশকে সহায়তার বিষয়ে নিজেদের দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আইএমএফ জানিয়েছে, তারা টেকসই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, আর্থিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অংশীদার হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।