আজ সোমবার ব্যাংকটিতে ২ ঘণ্টার ‘কলম বিরতি’র ডাক
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। একই সঙ্গে তাঁকে সদ্য অপসারিত আওয়ামী লীগ সরকার ও বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের ‘সহযোগী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
এই দাবিতে আগামীকাল সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশব্যাপী ব্যাংকের সব শাখা ও উপ-শাখায় গ্রাহক লেনদেনসহ সব ধরনের সেবা বন্ধ রেখে ২ ঘণ্টার ‘কলম বিরতি’ পালনের জন্য ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফোরামটি।
আজ রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে সচেতন গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও পরবর্তী সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক নূর নবী মানিক।
বক্তব্যে অধ্যাপক নূর নবী মানিক বলেন, “ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী এবং ব্যাংক লুটেরা এস আলম গ্রুপের উত্তরসূরি খুরশীদ আলমকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।”
দেশের আর্থিক খাতকে রক্ষায় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংক দেশের বৃহত্তম ব্যাংক। পতিত স্বৈরাচারী সরকারের কোনো দোসরকে এই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে বসিয়ে জাতীয় অর্থনীতি ধ্বংস করবেন না।”
খুরশীদ আলমকে ‘দুর্নীতিবাজ ও ব্যাংক লুটেরা’ আখ্যা দিয়ে তাঁর নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অধ্যাপক মানিক। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তীব্র চাপের মুখে খুরশীদ আলম বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে আত্মগোপনে চলে যান।
ফোরামের সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, “খুরশীদ আলমের মতো একজন পলাতক ব্যক্তিকে কেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হলো? কারণ তিনি সম্পদ লুটপাটে পটু। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগ ও এস আলম গ্রুপের স্বার্থে তহবিল লুট করেছিলেন; এখন তিনি অন্যদের জন্য একই কাজ করবেন।”
আগামীকালের কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি জানান, সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনেসহ সারা দেশের সব শাখা ও উপ-শাখায় অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধনের আয়োজন করবে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। ওই দুই ঘণ্টা ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত রেখে কর্মসূচিতে যোগ দিতে ব্যাংকের সব নির্বাহী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুরোধ জানান তিনি।
এর আগে প্ল্যাটফর্মটির একটি প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ব্যাংকিং কার্যক্রম সাময়িক ব্যাহত হয়েছিল। আজকের সমাবেশে ব্যাংকের বিপুল সংখ্যক শেয়ারহোল্ডার, সাধারণ গ্রাহক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।