শুক্রবার ৯ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
সিএমএসএমই খাতের ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল নভেম্বরের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশে সাশ্রয়ী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে আগ্রহী তুরস্ক, এফএসআরইউ ও এলএনজি খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব ক্যাশলেস স্বাস্থ্যসেবা প্রসারে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট চালু<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড জ্বালানি সংকটে থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির গতি, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের ট্যাক্স হ্যাভেনের দিন শেষ, বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল বদলাচ্ছে: আইএমএফ আজকের ডিজিটালের ব্যবধান যেন আগামী দিনের এআই ডিভাইডে পরিণত না হয়: ইস্তাম্বুলে আইসিটি মন্ত্রী জাহাজশিল্পের বিশ্ববাজার ধরতে অনুমোদন সহজ করার উদ্যোগ, দ্রুত টিএসডিএফ স্থাপনের নির্দেশ ঢাকায় এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম উপেক্ষা করে দেদারসে বাড়তি আদায়

১৮ দিনেই এলো ২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স: ৩ বিলিয়ন ছাড়ানোর সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) জোয়ার বইছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে এটি ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে।

রেকর্ডের পথে প্রবাসী আয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২১.৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৭.৬৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ২২.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

এর আগে গত জানুয়ারি মাসে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ আয়। ইতিহাসের সর্বোচ্চ তিনটি মাসিক আয় হলো: ১. ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার (মার্চ ২০২৫ – ঈদুল ফিতর কেন্দ্রিক) ২. ৩.২২ বিলিয়ন ডলার (ডিসেম্বর ২০২৫) ৩. ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার (জানুয়ারি ২০২৬)

রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব

রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী নিট রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

কেন বাড়ছে রেমিট্যান্স?

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা এই বৃদ্ধির পেছনে দুটি প্রধান কারণ দেখছেন:

  • রমজানের প্রস্তুতি: রমজান ও আসন্ন ঈদে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন।
  • ব্যাংকিং খাতে আস্থা: ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল হয়েছে। একইসঙ্গে হুন্ডি বা অবৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা কমে আসায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বেড়েছে।

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ইতিপূর্বেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের এই প্রবৃদ্ধি বছর শেষে রিজার্ভকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।