মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
ব্রোকারদের জন্য অভিন্ন ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার চান বিএসইসি চেয়ারম্যান: পাঁচ প্রতিষ্ঠানের ১৭,৩৩২ বিনিয়োগকারী পাচ্ছেন আইপিএফ তহবিলের ক্ষতিপূরণ পাইপলাইন গ্যাসের ঘাটতি ও এলপিজির তীব্র সংকট: আন্তর্জাতিক ফ্রেইট খরচ বাড়ায় বিপাকে গ্রাহক ভ্রমণ কোটার বাইরে আন্তর্জাতিক কার্ডে বিদেশি বিমান সংস্থার টিকিট কেনার সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়ার্ল্ডস্কিলস সাংহাই ২০২৬-এ বাংলাদেশের সাফল্য, ‘বেস্ট অব নেশন’ পুরস্কার পেলেন মাশফি কক্সবাজারে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের পাঁচ তারকা পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট তৈরিতে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক সই মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও দখলবাজি সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি আরএলএনজি থেকে রেকর্ড সরবরাহেও কাটেনি গ্যাস সংকট, দৈনিক ঘাটতি ১৪০০ এমএমসিএফডি বাংলা কিউআর লেনদেনে প্রণোদনার পরিধি বাড়াল, যুক্ত হলো ট্রেড লাইসেন্সধারী সব মার্চেন্ট রিহ্যাব নেতাদের ঋণখেলাপ ও কর পরিশোধের তথ্য চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ভুক্তভোগী আমানতকারীদের মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : অবিলম্বে জমানো টাকা ফেরত দেওয়ার রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে নজিরবিহীন মৌন প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ছয়টি অবসায়িত অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) কয়েকশ আমানতকারী। আজ বুধবার সকালে মুখে কালো কাপড় বেঁধে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন তারা, যা কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের নীরবতা ও আমানতকারীদের আর্তনাদকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে।

আন্দোলনকারীরা জানান, অবসায়নের প্রক্রিয়ায় থাকা ছয়টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ হাজার আমানতকারীর জীবনভর সঞ্চিত অর্থ গত সাত বছর ধরে আটকে আছে। এই দীর্ঘ সময়ে তারা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

অমানবিক সংকটে আমানতকারীরা

প্রতিবাদ চলাকালীন দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে ভুক্তভোগীরা জানান, সঞ্চিত অর্থ ফেরত না পাওয়ায় অনেক আমানতকারী বর্তমানে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের মতো প্রাণঘাতী ব্যাধির চিকিৎসা করাতে পারছেন না। টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন আমানতকারী মারা গেছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তারা এই পরিস্থিতিকে একটি ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আমানতকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা তিলে তিলে জমানো টাকা ফেরত পাচ্ছি না, অথচ আমাদের চোখের সামনে মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে। এটি আমাদের কঠোর পরিশ্রমের অর্থের ওপর এক চরম অবিচার।”

আমানতকারীদের প্রধান দাবিগুলো হলো:

১. সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ঘোষিত ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে টাকা ফেরতের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর রোডম্যাপ অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।

২. ব্যক্তিগত আমানতকারীদের অগ্রাধিকার: রিফান্ড প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চেয়ে সাধারণ খুচরা আমানতকারীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৩. জরুরি হস্তক্ষেপ: এই সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অবিলম্বে মানবিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বিক্ষুব্ধ আমানতকারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ও অবসায়ন প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে জনগণের আমানত রক্ষার চূড়ান্ত দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া ২০২৬ সালের জুলাইয়ের সময়সীমা কেবল একটি ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতি’ হয়ে থাকবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আন্দোলনকারীরা বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাইলে দ্রুত এই অচলাবস্থা নিরসন করতে পারে।” তারা এই সংকট সমাধানে সরাসরি গভর্নরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।