শুক্রবার ৯ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
সিএমএসএমই খাতের ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল নভেম্বরের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশে সাশ্রয়ী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে আগ্রহী তুরস্ক, এফএসআরইউ ও এলএনজি খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব ক্যাশলেস স্বাস্থ্যসেবা প্রসারে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট চালু<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড জ্বালানি সংকটে থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির গতি, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের ট্যাক্স হ্যাভেনের দিন শেষ, বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল বদলাচ্ছে: আইএমএফ আজকের ডিজিটালের ব্যবধান যেন আগামী দিনের এআই ডিভাইডে পরিণত না হয়: ইস্তাম্বুলে আইসিটি মন্ত্রী জাহাজশিল্পের বিশ্ববাজার ধরতে অনুমোদন সহজ করার উদ্যোগ, দ্রুত টিএসডিএফ স্থাপনের নির্দেশ ঢাকায় এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম উপেক্ষা করে দেদারসে বাড়তি আদায়

প্রাইভেট বিনিয়োগে ভাটা: ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছাড়াল ৪ লাখ কোটি টাকা

ঢাকা, ১৬ আগস্ট (বিডি ইকোনমি)- উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগে অনাগ্রহ এবং ব্যাংকে আমানত জমা বাড়ায় দেশের ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য (Surplus Liquidity) ইতিহাস গড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে ব্যাংক ব্যবস্থার এই অলস বা উদ্বৃত্ত অর্থ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত জুনে ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.৭৪ শতাংশ। তার বিপরীতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪.৪৭ শতাংশে। আমানত ও ঋণ বিতরণের মধ্যে এই ব্যবধান বাড়তে থাকায় গত দুই বছরে ব্যাংকে অলস অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। দুই বছর আগে যেখানে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ১.৯৩ লাখ কোটি টাকা এবং গত বছরের জুনে ছিল ২.৮৩ লাখ কোটি টাকা, তা এবার ৪.০৮ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করল।

কেন ঋণ নিচ্ছেন না উদ্যোক্তারা?

শিল্প কারখানা স্থাপন বা ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোক্তারা নতুন করে ঋণ নিতে ইতস্তত করছেন। ব্যাংকাররা উদ্যোক্তাদের এই অনিচ্ছার পেছনে কয়েকটি মূল অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে দায়ী করছেন:

  • জ্বালানি সংকট: গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চিত সরবরাহকে নতুন বিনিয়োগের প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হলে ব্যাংক ঋণের সুদ পরিশোধ করাই কঠিন হয়ে পড়ে।
  • উচ্চ পরিচালন ঝুঁকি: ব্যাংক ঋণের চড়া সুদ, বর্ধিত ব্যবসা পরিচালনা ব্যয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ঘনঘন কর ও নীতিমালার পরিবর্তন উদ্যোক্তাদের ঝুঁকি নিতে নিরুৎসাহিত করছে।

বর্তমানে যেটুকু ঋণ বিতরণ হচ্ছে, তার সিংহভাগই যাচ্ছে চলতি মূলধন (Working Capital), কাঁচামাল আমদানি ও দৈনন্দিন পরিচালনা ব্যয় মেটাতে। নতুন শিল্প স্থাপন বা দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণে ঋণের চাহিদা নেই বললেই চলে।

ব্যাংকগুলোর সতর্কতা ও সরকারি সিকিউরিটিতে ঝুঁকিহীন বিনিয়োগ

শুধু যে ঋণগ্রহীতাদের থেকে চাহিদা কম তা-ই নয়; বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও তাদের ঋণ বিতরণের শর্তাবলি কঠোর করেছে। অতীতে যাচাই-বাছাই ছাড়া ঢালাও ঋণ দেওয়ার ফলে খেলাপি ঋণ (NPL) রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এখন প্রতিটি ব্যাংক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ঋণের আবেদন মূল্যায়নে ব্যবসার সম্ভাব্যতা, জামানত এবং নগদ প্রবাহের ওপর কড়া নজর দেওয়া হচ্ছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সব ব্যাংকের অবস্থা এক নয়। অপেক্ষাকৃত দুর্বল ব্যাংকগুলো যখন তারল্য সংকটে ভুগছে, তখন সবল ব্যাংকগুলোর হাতে জমা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত অর্থ। কিন্তু ঝুঁকি এড়াতে এসব ব্যাংক বেসরকারি খাতে ঋণ না দিয়ে সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মতো নিরাপদ খাতে টাকা বিনিয়োগ করাকেই শ্রেয় মনে করছে।

ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আরফান আলী এ বিষয়ে জানান, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশের প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ায় উদ্যোক্তারা এখনও বিনিয়োগে নামতে দ্বিধাবোধ করছেন।

তিনি বলেন, “উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় অংশটি গুটিঝাঁক ভালো ব্যাংকের হাতে পুঞ্জীভূত রয়েছে এবং তারা ঝুঁকিহীন সরকারি সিকিউরিটিতে টাকা বিনিয়োগ রাখাকে নিরাপদ মনে করছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শুধু ঋণের সুদহার কমিয়ে বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ানো সম্ভব নয়।”