বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
ঋণখেলাপির সংস্কৃতি থেকে ব্যাংক লুটপাট: আর্থিক খাতের দুর্দশার জন্য দায়ী করলেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ পাবনায় কৃষি ও এসএমই উদ্যোক্তাদের ২.৭০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করল ব্যাংকসমূহ অভিবাসী শ্রমিকের সুরক্ষা ও শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের আহ্বান বিএলএস-এফইএস যুব সম্মেলনে সংশোধিত সাইবার আইনে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ না করার আহ্বান—ভয়েস ফর রিফর্মের সংলাপ ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীলকরণে সিস্টেমিক ঝুঁকি ও আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বিআইবিএম-এর কর্মশালা জুলাই-অক্টোবর সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১১.০৪ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম; রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৪১ বিলিয়ন ডলার অস্ট্রেলিয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ, বিএসআরইএর সংবাদ সম্মেলন ২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ মৎস্য খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবি: বিলস-এফইএস সংলাপ

পাঁচটি দেউলিয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, ২২ জুন ২০২৬ (বিডাইকোনমি ডটনেট) – তীব্র সংকটে থাকা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়া পাঁচটি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) অবলুপ্তি বা লিকুইডেশন প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রশাসক (অ্যাডমিনিস্ট্রেটর) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সাথে এসব প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র আমানতকারীর টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে।

নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার এই উদ্ধার পরিকল্পনার আওতায়, প্রথম দফায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত রাখা একক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ের এই অর্থ পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল জাতীয় বাজেটে বরাদ্দকৃত সরকারের একটি বিশেষ তহবিল থেকে বিতরণ করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, যে পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিক অবলুপ্তির (লিকুইডেশন) জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো হলো—ফাস ফাইন্যান্স (FAS Finance), ফারইস্ট ফাইন্যান্স (Fareast Finance), আভিভা ফাইন্যান্স (Aviva Finance), পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (People’s Leasing) এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (International Leasing)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার খুচরা বা সাধারণ বিনিয়োগকারীর আনুমানিক ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আমানত প্রত্যাহার করতে না পেরে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন এই গ্রাহকেরা।

সর্বশেষ আর্থিক নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদনগুলোতে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ শৃঙ্খলার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। গত ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ফাস ফাইন্যান্সে খেলাপি ঋণের হার নজিরবিহীনভাবে ৯৯.৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এর পরপরই রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং (৯৯.৪৪ শতাংশ), ফারইস্ট ফাইন্যান্স (৯৮.৫০ শতাংশ), পিপলস লিজিং (প্রায় ৯৫ শতাংশ) এবং আভিভা ফাইন্যান্স (৯৩.৯৩ শতাংশ)।

পরিসংখ্যান বলছে, এই পাঁচ অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ঋণ পোর্টফোলিওর প্রায় পুরোটাই এখন খেলাপি বা মন্দ ঋণে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনিক করপোরেট কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ন্যূনতম সক্ষমতাও আর অবশিষ্ট নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অবলুপ্তি বা লিকুইডেশন কৌশলের বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। সরকারি প্রশাসক নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবশিষ্ট সম্পদ মূল্যায়ন করবে এবং পর্যায়ক্রমিকভাবে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের পাওনা বুঝিয়ে দেবে।