নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি ইকোনমি ঢাকা: পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য ঝামেলাহীন ও বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য এবং তাদের পরিবারের জন্য সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের বিশেষ “প্রিভিলেজ কার্ড” আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বিজিএমইএ এবং মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কার্ডের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
বিজিএমইএ পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী ও নাফিস-উদ-দৌলার একনিষ্ঠ উদ্যোগ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে বিজিএমইএ এবং পার্কওয়ে হসপিটালস সিঙ্গাপুর (বর্তমানে আইএইচএইচ হেলথকেয়ার সিঙ্গাপুর) এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoУ) স্বাক্ষরিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এই প্রিভিলেজ কার্ডটি চালু করা হলো।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী বলেন, “আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের সিইও আমাদের মাঝে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিজিএমইএ সদস্যদের প্রতি তাদের সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতির প্রমাণ দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এই কার্ডের মাধ্যমে আমাদের সাধারণ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারী বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়াই সিঙ্গাপুরের বিশ্বমানের চিকিৎসা নেটওয়ার্কে সরাসরি ভিআইপি মর্যাদা, বিশেষ কর্পোরেট ছাড় ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন। এটি আমাদের সদস্যদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান বোর্ডের চলমান ও নিরলস প্রচেষ্টার অংশ।”
মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়ং ইহ মিং বিজিএমইএ-র মতো একটি শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠনের সাথে যুক্ত হতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই প্রিভিলেজ কার্ডের মাধ্যমে বিজিএমইএ সদস্য এবং তাদের পরিবার সিঙ্গাপুরে সর্বোচ্চ সুবিধা, স্বাচ্ছন্দ্য ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উচ্চমানের আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।”
মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুর (বাংলাদেশ অফিস) এর পরিচালক জাহিদ হাসান খান নতুন এই কার্ডের আওতাধীন সুযোগ-সুবিধা ও বিভিন্ন কর্পোরেট প্রিভিলেজের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
এই প্রিভিলেজ সুবিধার অধীনে বিজিএমইএ সদস্য এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা ‘এক্সিকিউটিভ হেলথ স্ক্রিনিং’ সহ বিভিন্ন ফিক্সড মেডিকেল প্যাকেজে বিশেষ কর্পোরেট ছাড় পাবেন।
অন্যান্য বিশেষ সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
২৪ ঘণ্টা ডেডিকেটেড জরুরি হটলাইন সুবিধা।
মেডিকেল ভিসা প্রসেসিং এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
সিঙ্গাপুরের চ্যাঙ্গি এয়ারপোর্ট থেকে হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য বিনামূল্যে এয়ারপোর্ট পিক-আপ সুবিধা।
সম্পূর্ণ নিখরচায় চিকিৎসা পরিকল্পনা সংক্রান্ত পরামর্শ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা।
কার্ড লঞ্চিং অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আইএইচএইচ হেলথকেয়ারের কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমার) জ্যাক ট্যান এবং বিজিএমইএ পরিচালক জোয়াদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম উপস্থিত ছিলেন।