বুধবার ৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
জ্বালানি সংকটে থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির গতি, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের ট্যাক্স হ্যাভেনের দিন শেষ, বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল বদলাচ্ছে: আইএমএফ আজকের ডিজিটালের ব্যবধান যেন আগামী দিনের এআই ডিভাইডে পরিণত না হয়: ইস্তাম্বুলে আইসিটি মন্ত্রী জাহাজশিল্পের বিশ্ববাজার ধরতে অনুমোদন সহজ করার উদ্যোগ, দ্রুত টিএসডিএফ স্থাপনের নির্দেশ ঢাকায় এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম উপেক্ষা করে দেদারসে বাড়তি আদায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে মূল ভিত্তি ‘বিশ্বাস’: তানভীর শাহরিয়ার গনি পরিকল্পিত নগরায়ণে জেলা ও সিটি করপোরেশনে নতুন মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তীব্র সংকটের মাঝেই বাড়ল এলপিজির দাম, খুচরা বাজারে অস্থিরতা জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার: রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি

জ্বালানি সংকটে থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির গতি, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের

ঢাকা, ৬ অক্টোবর (বিডিইকোনমি): জ্বালানি খাতের তীব্র সংকট, আর্থিক খাতের ঝুঁকি এবং রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি মারাত্মকভাবে শ্লথ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক এই আর্থিক সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে মাত্র ৩.৪ শতাংশে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, গ্যাসের ঘাটতিসহ জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে মন্দা এবং রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে, অন্যদিকে ব্যবসা পরিচালনার খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৩.৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তবে এই ঘুরে দাঁড়ানো পুরোপুরি নির্ভর করছে জ্বালানি সংকট নিরসন এবং সরকারের দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেম (Jean Pesme) বলেন, “অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। দেশের দরিদ্র মানুষকে সুরক্ষা দিতে এবং বেশি ও উন্নত কর্মসংস্থান তৈরি করতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ত্বরান্বিত করার সময় এখনই।”

বিশ্বব্যাংক সামাজিক ও আর্থিক সূচকের এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটির মতে, কর্মসংস্থান না থাকা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে নতুন করে প্রায় ২১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।

খেলারূপ ঋণের কারণে ব্যাংকিং খাতের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে (২০২৫) যেখানে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩০.৬ শতাংশ, তা ২০২৬ সালের জুনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩.২ শতাংশে। এ ছাড়া জিডিপির তুলনায় করের অনুপাত মাত্র ৮.৩ শতাংশ, যা বিশ্বে অন্যতম সর্বনিম্ন। এর ফলে সরকারের কাজের পরিধি সীমিত হয়ে পড়েছে এবং রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৩.৯ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনী জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বর্তমানে দেশের অতিদরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই কোনো সরকারি সুরক্ষার আওতায় নেই। সরকার যদি ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ তৈরি করে, খাদ্য ভর্তুকি এক ছাতার নিচে আনে এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে, তবে আরও সাড়ে ২৮ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব বলে মনে করে সংস্থাটি।

‘দক্ষিণ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’-এর অংশ হিসেবে এই রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে এ অঞ্চলের সামগ্রিক গড় প্রবৃদ্ধি চলতি বছর ৬.৯ শতাংশ এবং আগামী বছর ৬.৭ শতাংশ হবে বলে জানানো হয়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যদি অবকাঠামো ও দক্ষতা বাড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কাজে লাগাতে পারে, তবে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিসহ রপ্তানি ও সরকারি সেবা প্রদানে যুগান্তকারী বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব।