ঢাকা, ১ অক্টোবর (বিডিইকোনমি): চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ৮৫৭ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ৭৫৮ কোটি ডলারের তুলনায় এ প্রবাহ বেড়েছে ১৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে রেমিট্যান্সের অবদান আরও জোরালো হয়েছে।
তবে সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কমেছে। এ মাসে দেশে এসেছে ২৭৫ কোটি ডলার, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ২৬৯ কোটি ডলারের চেয়ে ২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিন ৩০ সেপ্টেম্বর এক দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
বছরের শুরু থেকেই ঊর্ধ্বমুখী রেমিট্যান্স
২০২৬ সালের শুরু থেকেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য গতি দেখা যায়। জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩১৭ কোটি ডলার দেশে পাঠান, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ শতাংশের বেশি।
পরবর্তী মাসগুলোতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ তুলনামূলক শক্তিশালী ছিল। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের বাড়তি অর্থ পাঠানো, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ এ প্রবাহ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
পাশাপাশি অবৈধ বা অনানুষ্ঠানিক হুন্ডি চ্যানেল নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পদক্ষেপও বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার প্রবণতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
বৈধ চ্যানেলে আস্থা বাড়ার ইঙ্গিত
ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধি প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিভিন্ন নীতিগত সুবিধা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।
অর্থনীতির জন্য রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সরবরাহ বাড়ায়, অন্যদিকে প্রবাসী পরিবারের ভোগ ও বিনিয়োগ সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য এবং সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রথম প্রান্তিকে ৮৫৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স প্রবাহ চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।