ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর (বিডিইকোনমি): ব্যাংক খাতে সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কর্মমূল্যায়নে ১০০ নম্বরের একটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে ‘কি পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (কেপিআই) ফ্রেমওয়ার্ক’ শীর্ষক এই সার্কুলার জারি করা হয়।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংক এমডিদের কর্মদক্ষতা পাঁচটি মূল মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।
মূল্যায়নের ১০০ নম্বরের বণ্টন:
- ব্যাংকের সচ্ছলতা ও তারল্য (২৫ নম্বর): ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন অনুপাত (সিআরএআর), কমন ইকুইটি টায়ার-১ এবং স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি তারল্য ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা দেখা হবে।
- সম্পদের গুণগত মান (২৫ নম্বর): খেলাপী ঋণ (এনপিএল) হ্রাস, ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং খেলাপী ও অবলোপনকৃত (রাইট-অফ) ঋণ পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেওয়া হবে।
- সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ (২৫ নম্বর): বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পালন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) নীতি অনুসরণ, ব্যাংক পরিদর্শন রেটিং ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া হবে।
- আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ ও গ্রাহক সেবা (১৫ নম্বর): ডিজিটাল ব্যাংকিং, গ্রাহক অভিযোগ নিস্পতি, এসএমই, কৃষি ও সবুজ অর্থায়নের অগ্রগতির ভিত্তিতে এই মানদণ্ড মূল্যায়িত হবে।
- মুনাফাযোগ্যতার (১০ নম্বর): সম্পদের বিপরীতে আয় (আরওএ), ইকুইটির বিপরীতে আয় (আরওই), নিট সুদ মার্জিন ও পরিচালনা ব্যয় দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে নম্বর নির্ধারণ করা হবে।
গ্রেডিং ও পেনাল্টি ব্যবস্থা:
মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী—৭৫ বা তার বেশি নম্বর পেলে ‘অ্যাভাব এভারেজ’ (গড়ের উপরে), ৬৫ থেকে ৭৫-এর কম পেলে ‘এভারেজ’ (গড়পরতা) এবং ৬৫-এর কম নম্বর পেলে ‘বিলো এভারেজ’ (গড়ের নিচে) হিসেবে গণ্য করা হবে। ‘বিলো এভারেজ’ পয়েন্ট পাওয়া এমডিদের কর্মদক্ষতা অবিলম্বে বৃদ্ধির নির্দেশনা থাকবে।
কোনো এমডি যদি কোনো কেপিআই-তে ৫০ শতাংশের কম লক্ষ্য অর্জন করেন, তবে ওই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কোনো নম্বর পাবেন না (শূন্য নম্বর)। এ ছাড়া খেলাপী ঋণ, অবলোপনকৃত ঋণ পুনরুদ্ধার কিংবা ঋণ পৌঁছানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ৬টি কেপিআই-তে ৫০ শতাংশের কম লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে নির্দিষ্ট হারে নম্বর কেটে পেনাল্টি প্রদান করা হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আগামী ৩ বছরের জন্য প্রতিটি কেপিআই-এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে এবং অর্ধবার্ষিক ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পর্যালোচনা প্রতিবেদন জমা দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত এই মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই এমডিদের পুনর্নিয়োগ, চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং বেতন-ভাতা নির্ধারিত হবে।