সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
এমডিদের কর্মমূল্যায়নে ১০০ নম্বরের ফ্রেমওয়ার্ক জারি করলো বাংলাদেশ ব্যাংক বিবিসিসিআই’র ডিরেক্টর নির্বাচিত হলেন জহিরুল ইসলাম, আজীবন সদস্য পদ পেলেন কিবরিয়া ও মোর্তুজা<gwmw style="display:none;"></gwmw> দ্বিতীয় প্রান্তিকে সাব-ব্রাঞ্চে আমানত বেড়ে ৮৪,২৬৩ কোটি টাকা, ঋণ বিতরণ কমেছে ৭.৭ শতাংশ<gwmw style="display:none;"></gwmw> US cotton warehouse to launch in Chattogram in mid-November to boost bilateral trade তা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তীব্র আপত্তি<gwmw style="display:none;"></gwmw> রাজধানীতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ১১তম ‘বাপা ফুডপ্রো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ২০২৪’ ‘ওয়ান বাই মেটলাইফ’ অ্যাপে গ্রাহকদের জন্য নতুন ৪ ফিচার যুক্ত ২০২৮ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্য: ডিএসই ঋণের জামানত মূল্যায়নে ১৩১ প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেওয়া সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত: এবিবি

ঢাকা, ১৫ জুন (বিডিইকোনমি): ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যানসহ বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে ‘সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ’ বলে অভিহিত করেছে সংগঠনটি।

আজ সোমবার (১৫ জুন) এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই স্বস্তি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইসলামী ব্যাংকের চলমান সংকট কেবল একটি একক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ব্যাংক নির্বাহীদের শীর্ষ এই সংগঠনটি গত ১০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সামগ্রিক ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

এবিবি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে, “আমরা গভর্নরকে জানিয়েছিলাম যে, দ্রুততম সময়ে এই সংকটের সমাধান পুরো খাতের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। কারণ ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি এখন আর কোনো একক ব্যাংকের বিষয় নয়; এর প্রভাব পুরো ব্যাংকিং খাতে অনুভূত হচ্ছে।” উদ্ভূত বিরোধটি তীব্র রাজনৈতিক রূপ নেওয়ায় সংগঠনটি এর আগে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পরামর্শ দিয়েছিল।

“এই প্রেক্ষাপটে, আমরা মনে করি গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, এটি ইসলামী ব্যাংকে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং এর আমানতকারী, বিনিয়োগকারী ও অংশীজনদের আস্থা পুনর্গঠন করবে,” বিবৃতিতে যোগ করা হয়।

দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকটির বিশাল পরিধির কথা উল্লেখ করে এবিবি জোর দিয়ে বলে, ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই ব্যাংকের রয়েছে প্রায় ৩ কোটি গ্রাহক, এক বিশাল আমানত ও বিনিয়োগ পোর্টফোলিও, দেশের বৃহত্তম রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে এক বিশাল অংশীদারিত্ব।

সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে উগ্রপন্থী বা উচ্ছৃঙ্খল জনতাবিশেষের (mob) বিক্ষোভের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, তারল্য রক্ষা এবং দেশি আমানতকারী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিয়ে আর্থিক খাতে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ নিয়োগের মাধ্যমে এই উদ্বেগগুলো দূর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এবিবি।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ব্যাংকারদের এই সংগঠনটি পুনর্গঠিত এই প্রতিষ্ঠানের কাছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং পরিবেশ এবং ব্যাংকের বিশাল পরিমাণের খেলাপি ঋণ (NPL) জোরালোভাবে আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতির আহ্বান জানিয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের রাস্তাঘাটের বিশৃঙ্খলা বা উগ্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এবিবি বিবৃতির সমাপ্তি টানে। একই সঙ্গে সরকারের সর্বোচ্চ মহলকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, “আমরা আশা করি সব সচেতন নাগরিক এটি অনুধাবন করবেন যে— ব্যাংকিং খাতে উগ্র জনতার প্রভাব বা ‘মব কালচার’ এই শিল্পের জন্য একটি অত্যন্ত অমঙ্গলজনক সংকেত।”