ঢাকা, ২৯ জুলাই (বিডিইকোনমি ডটনেট- পোল্ট্রি খাতের লাগামহীন উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কর্পোরেট সিন্ডিকেটের হাত থেকে প্রান্তিক খামারিদের রক্ষায় ৬ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি শিল্প রক্ষা অ্যাসোসিয়েশন। দাবি আদায় না হলে আগামী ২৯ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগে কাফনের কাপড় পরে অবস্থান ও আমরণ অনশন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বুধবার (২৯ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম (মল্লিক) এই আল্টিমেটাম দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত ছয় বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করা সত্ত্বেও পোল্ট্রি ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর সিন্ডিকেটের কারণে হাজার হাজার প্রান্তিক খামারি আজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, “প্রান্তিক খামারিরা তাদের উৎপাদিত ডিম ও মুরগির ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগী ও তথাকথিত তেজগাঁও সমিতির মতো সিন্ডিকেটের কৃত্রিম বাজার কারসাজির কারণে সাধারণ জনগণকেও চড়া মূল্যে প্রোটিন কিনতে হচ্ছে।” তিনি ফিড ও বাচ্চা উৎপাদনকারী বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর সরাসরি ডিম ও মুরগি উৎপাদনে অংশ নেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন।
প্রান্তিক খামারিদের ৬ দফা দাবি:
১. ফিডের দাম নির্ধারণ: ব্রয়লার মুরগির ৫০ কেজির প্রতি বস্তা খাদ্যের দাম ২,০০০ থেকে ২,১০০ টাকা এবং লেয়ার ও সোনালী মুরগির খাদ্যের দাম ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ টাকার মধ্যে স্থির করতে হবে এবং খাদ্যের গুণগত মান বাড়াতে হবে।
২. বাচ্চার দাম নিয়ন্ত্রণ: বছরজুড়ে ব্রয়লার ও লেয়ারসহ সব ধরনের বাচ্চার দাম ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করতে হবে।
৩. কর্পোরেট খামার নিষিদ্ধ: ফিড ও বাচ্চা উৎপাদনকারী কর্পোরেট কোম্পানিগুলো সরাসরি ডিম ও রেডি মুরগি উৎপাদন করতে পারবে না।
৪. সহজ শর্তে ঋণ: প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. উৎপাদন সীমা নির্ধারণ: বাজার একচেটিয়াকরণ রোধে কোনো একক খামারি বা প্রতিষ্ঠান ১০ হাজার মুরগির বেশি উৎপাদন করতে পারবে না।
৬. সরকারি হ্যাচারি সক্রিয়করণ: সরকারি হ্যাচারিগুলোতে মানসম্মত বাচ্চা উৎপাদন করে ন্যায্যমূল্যে খামারিদের কাছে সরবরাহ করতে হবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে আগামী ৭ আগস্টের মধ্যে সচিবালয়ে একটি ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
যদি এই আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান না আসে এবং ১৭ আগস্টের মধ্যে ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে আগামী ২৯ আগস্ট সারা দেশ থেকে প্রান্তিক খামারিরা ঢাকায় এসে শাহবাগ মোড়ে কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন ও পথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন।
গোলটেবিল বৈঠকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা ইমরান আলী, ইউসুফ আলী, কাহোল মিঞা, বাবলা মিঞা, মোস্তফা কামাল এবং আশরাফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।