বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
বিগত সরকারের ভুল নীতি ও আমদানিনির্ভরতাই বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণ: তিতুমীর ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ আবার ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনর্গঠনে নীতি সহায়তার আবেদনের সময় বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি গ্রাহকদের আসল আমানত ফেরত দিচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সেপ্টেম্বরেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা ২৬ হাজার কোটি টাকা, ৬ মূল বেতনের সমান বোনাস পাচ্ছেন কর্মকর্তারা উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র: ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিলের সুদহার কমিয়ে ৭% করল বাংলাদেশ ব্যাংক মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন করল বিএসইসি

রাজপরিবারে নতুন সংকট: প্রিন্স অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তার রাজা চার্লসের জন্য বড় পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, লন্ডন : ভাই অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তারের পর এক কঠিন সংকটের মুখে পড়েছেন ব্রিটেনের রাজা চার্লস তৃতীয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সিংহাসনে আরোহণের পর থেকেই একের পর এক পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে ৭৭ বছর বয়সী এই রাজাকে। রাজপরিবার বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান্ড্রুর এই গ্রেপ্তার আধুনিক রাজকীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।

রাজকীয় ভাষ্যকার এড ওয়েন্স এএফপি-কে বলেন, “সিংহাসনে বসার পর থেকেই চার্লস বিভিন্ন সংকটে জর্জরিত—সেটি তার ছোট ছেলে হ্যারির সাথে তিক্ততা হোক, নিজের বা প্রিন্সেস অফ ওয়েলস ক্যাথরিনের ক্যানসার হোক কিংবা অ্যান্ড্রুর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড।”

সংকটের দীর্ঘ তালিকা

রানি এলিজাবেথের ৭০ বছরের শাসনের পর যখন চার্লস দায়িত্ব নেন, তখন থেকেই অস্থিরতা শুরু হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রিন্স হ্যারির স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’ (Spare) প্রকাশিত হলে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ কলহ জনসমক্ষে চলে আসে। এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজার ক্যানসার শনাক্ত হয় এবং এর কয়েক সপ্তাহ পরেই পুত্রবধূ ক্যাথরিনের ক্যানসারের খবর আসে। যদিও তারা বর্তমানে সুস্থতার পথে, কিন্তু অসুস্থতার এই ছায়া রাজপরিবারকে অনেকটা ম্লান করে দিয়েছিল।

অ্যান্ড্রু: এক ‘অবিস্ফোরিত বোমা’

তবে রাজতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন রাজার ছোট ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর। মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সাথে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রাজপরিবারকে বছরের পর বছর ধরে বিব্রত করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত অক্টোবরে চার্লস তার ভাইয়ের সমস্ত রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিয়েছিলেন।

কিন্তু গত মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত নতুন নথি পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি এপস্টাইনকে অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করেছিলেন।

রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

ইতিহাসবিদ অ্যান্ড্রু লোনি বলেন, এটি রাজতন্ত্রের জন্য একটি ‘সঙ্কটকাল’। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি প্রমাণিত হয় যে রাজপরিবার অ্যান্ড্রুর অপরাধ আড়াল করতে তাকে সহায়তা করেছে, তবে রাজাকে সিংহাসন ছাড়ার চাপের মুখেও পড়তে হতে পারে।

রাজা চার্লস বৃহস্পতিবার এক বিরল ব্যক্তিগত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে” এবং এই ঘটনায় তিনি “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৩৬ সালে অষ্টম এডওয়ার্ডের সিংহাসন ত্যাগ এবং ১৯৯৭ সালে ডায়ানার মৃত্যুর পর এটিই রাজপরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা। এড ওয়েন্সের ভাষায়, “রানি এলিজাবেথ অ্যান্ড্রু নামক এক অবিস্ফোরিত বোমা চার্লসের হাতে দিয়ে গেছেন।”

এখন জনগনের আস্থা ও রাজতন্ত্রের ‘নৈতিক কর্তৃত্ব’ পুনরুদ্ধার করতে প্রিন্স উইলিয়াম ও রাজা চার্লসকে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।