বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
চামড়া খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২,০০০ কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠন ক্যাশলেস ক্যাম্পাস গড়তে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ব্র্যাক ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ চালু<gwmw style="display:none;"></gwmw> আহত ও কর্মহীন জুলাই যোদ্ধাদের কর্মসংস্থানে বিডিজবস ও ‘তারুণ্যের জুলাই’র সমঝোতা স্মারক কর্পোরেট সিন্ডিকেট ভাঙতে ৬ দফা দাবি প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিদের, অনশনের হুঁশিয়ারি পেপাল ও পেওনিয়ারসহ আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা চালুর পথ সুগম করল বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্য বাড়াতে খাল ও নৌপথ পুনরুজ্জীবনের তাগিদ ডিসিসিআইয়ের কর ফাঁকি রোধ ও স্বচ্ছতা বাড়াতে একক করদাতা সনাক্তকরণ নম্বরের সুপারিশ আইএমএফের চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যেই নোয়াখালীতে বাপেক্সের নতুন কূপ খনন শুরু

চামড়া খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২,০০০ কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠন

ঢাকা, ২৯ জুলাই (বিডিইকোনমি ডটনেট- দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের বিকাশ, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২,০০০ কোটি টাকার একটি আবর্তনযোগ্য প্রাক-অর্থায়ন স্কিম (Pre-finance Scheme) গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। সার্কুলারটিতে স্বাক্ষর করেছেন বিআরপিডি-র পরিচালক গাজী মো. মাহফুজুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত এ তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হলো চামড়াজাত পণ্যের দেশীয় চাহিদা মেটানো, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিতকরণ, পণ্যের আন্তর্জাতিক মান রক্ষা এবং এ খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ‘এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্ট’ এ তহবিল পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ করবে। ৩ বছর মেয়াদী এই তহবিলটি একটি আবর্তনযোগ্য (Revolving) স্কিম হিসেবে পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্টের সাথে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে এ তহবিলের আওতায় সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের অনুকূলে ঋণ মঞ্জুর করার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।

সুদের হার ও ঋণের মেয়াদ:

গ্রাহক পর্যায়ে এ তহবিলের আওতায় ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার হবে বার্ষিক ৭ শতাংশ। বিপরীতে, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা পাবে। নির্ধারিত চার্জ/ফি ব্যতিরেকে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো ফি আদায় করতে পারবে না ব্যাংকগুলো।

  • টার্ম লোন বা মেয়াদী ঋণ: নতুন ট্যানারি স্থাপন, কারখানার বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) নির্মাণ এবং কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে হিমাগার তৈরির মতো অবকাঠামোগত কাজের জন্য গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ৭ বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত মেয়াদী ঋণ পাবেন।
  • আধুনিকায়ন ও নতুন কারখানা: বিদ্যমান ট্যানারি সংস্কার ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা এবং নতুন চামড়াজাত পণ্য তৈরির কারখানা স্থাপনে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত মেয়াদী ঋণ দেওয়া হবে।
  • চলতি মূলধন: কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদান ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো চলতি মূলধন সুবিধা হিসেবে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। এ ঋণের মেয়াদ হবে ১ বছর, যা সন্তোষজনক লেনদেন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত নবায়নযোগ্য। তবে চামড়া শিল্পের সহায়ক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত চলতি মূলধন ঋণ পাবে।

যোগ্যতা ও পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা:

তহবিলের আওতায় কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ), এক্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন প্রি-ফাইন্যান্স ফান্ড (ইএফপিএফ) বা গ্রীন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) থেকে ঋণ সুবিধা পাচ্ছে, তারা এ তহবিল থেকে একই খাতে ঋণের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে না। পাশাপাশি ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী চিহ্নিত ঋণখেলাপীদের এ সুবিধা দেওয়া হবে না।

পরিবেশ সুরক্ষায় সার্কুলারে কয়েকটি বিশেষ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে:

  • ঋণগ্রহীতা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ পাওয়ার ২ বছরের মধ্যে ‘লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ’ (LWG) সার্টিফিকেশন অর্জনের প্রমাণ জমা দিতে হবে।
  • পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এসব বিশেষ শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ স্কিমসহ অন্য কোনো তহবিলের আওতায় আর কোনো ঋণ সুবিধা পাবে না।