মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত ২০ দিনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত প্রত্যাহার ৩,২৪৫ কোটি টাকা ঢাকার বসুন্ধরায় সনির প্রথম অনুমোদিত ক্যামেরা সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে টাকা: বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ১৪তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাচ্ছে খানাপিনার অভ্যাস, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: গবেষণা কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এসডিজি অর্জনে গতি বৃদ্ধি ও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার দাবি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো তিতাস-২৮ কূপের গ্যাস, দৈনিক মিলবে ১২-১৩ এমএমসিএফডি

চামড়া খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২,০০০ কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠন

ঢাকা, ২৯ জুলাই (বিডিইকোনমি ডটনেট- দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের বিকাশ, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২,০০০ কোটি টাকার একটি আবর্তনযোগ্য প্রাক-অর্থায়ন স্কিম (Pre-finance Scheme) গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। সার্কুলারটিতে স্বাক্ষর করেছেন বিআরপিডি-র পরিচালক গাজী মো. মাহফুজুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত এ তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হলো চামড়াজাত পণ্যের দেশীয় চাহিদা মেটানো, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিতকরণ, পণ্যের আন্তর্জাতিক মান রক্ষা এবং এ খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ‘এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্ট’ এ তহবিল পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ করবে। ৩ বছর মেয়াদী এই তহবিলটি একটি আবর্তনযোগ্য (Revolving) স্কিম হিসেবে পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্টের সাথে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে এ তহবিলের আওতায় সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের অনুকূলে ঋণ মঞ্জুর করার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।

সুদের হার ও ঋণের মেয়াদ:

গ্রাহক পর্যায়ে এ তহবিলের আওতায় ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার হবে বার্ষিক ৭ শতাংশ। বিপরীতে, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা পাবে। নির্ধারিত চার্জ/ফি ব্যতিরেকে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো ফি আদায় করতে পারবে না ব্যাংকগুলো।

  • টার্ম লোন বা মেয়াদী ঋণ: নতুন ট্যানারি স্থাপন, কারখানার বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) নির্মাণ এবং কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে হিমাগার তৈরির মতো অবকাঠামোগত কাজের জন্য গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ৭ বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত মেয়াদী ঋণ পাবেন।
  • আধুনিকায়ন ও নতুন কারখানা: বিদ্যমান ট্যানারি সংস্কার ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা এবং নতুন চামড়াজাত পণ্য তৈরির কারখানা স্থাপনে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত মেয়াদী ঋণ দেওয়া হবে।
  • চলতি মূলধন: কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদান ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো চলতি মূলধন সুবিধা হিসেবে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। এ ঋণের মেয়াদ হবে ১ বছর, যা সন্তোষজনক লেনদেন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত নবায়নযোগ্য। তবে চামড়া শিল্পের সহায়ক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত চলতি মূলধন ঋণ পাবে।

যোগ্যতা ও পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা:

তহবিলের আওতায় কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ), এক্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন প্রি-ফাইন্যান্স ফান্ড (ইএফপিএফ) বা গ্রীন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) থেকে ঋণ সুবিধা পাচ্ছে, তারা এ তহবিল থেকে একই খাতে ঋণের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে না। পাশাপাশি ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী চিহ্নিত ঋণখেলাপীদের এ সুবিধা দেওয়া হবে না।

পরিবেশ সুরক্ষায় সার্কুলারে কয়েকটি বিশেষ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে:

  • ঋণগ্রহীতা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ পাওয়ার ২ বছরের মধ্যে ‘লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ’ (LWG) সার্টিফিকেশন অর্জনের প্রমাণ জমা দিতে হবে।
  • পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এসব বিশেষ শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ স্কিমসহ অন্য কোনো তহবিলের আওতায় আর কোনো ঋণ সুবিধা পাবে না।