সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও দখলবাজি সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি আরএলএনজি থেকে রেকর্ড সরবরাহেও কাটেনি গ্যাস সংকট, দৈনিক ঘাটতি ১৪০০ এমএমসিএফডি বাংলা কিউআর লেনদেনে প্রণোদনার পরিধি বাড়াল, যুক্ত হলো ট্রেড লাইসেন্সধারী সব মার্চেন্ট রিহ্যাব নেতাদের ঋণখেলাপ ও কর পরিশোধের তথ্য চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইডিআরএ সদস্য আবু বকর সিদ্দিকের পদত্যাগ, এক সপ্তাহে দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের বিশেষ ‘প্রাইওরিটি ব্যাংকিং’ সেবা দেবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ-কুয়েত শ্রমবাজার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে একমত তারেক রহমান ও কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স মালেশিয়ার ডেপুটি অর্থমন্ত্রীর সাথে ডিএসসিসি সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের আহ্বান প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আর্কটিক অঞ্চলের জন্য নতুন নীতিমালার ডাক দিল ইইউ; গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্বে জোর

ব্রাসেলস ও ট্রোমসো : আর্কটিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) একটি নতুন এবং যুগোপযোগী ‘আর্কটিক পলিসি’ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন জোটের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। মঙ্গলবার নরওয়েতে অনুষ্ঠিত ‘আর্কটিক ফ্রন্টিয়ার্স কনফারেন্স’-এ ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব

কাজা কালাস তার বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড কেবল খনিজ সম্পদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি সাবমেরিন রুট এবং রাশিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইল চলাচলের সংক্ষিপ্ততম আকাশপথের ওপর অবস্থিত।

কালাস বলেন, “ইইউ বোঝে যে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেমন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।” তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কী হবে তা কেবল গ্রিনল্যান্ডবাসী এবং ডেনমার্কই সিদ্ধান্ত নেবে।

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা

আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তার বিষয়ে ইইউ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে কালাস বলেন, “আমরা সতর্ক কারণ এখানে অনেক কিছু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ইউরোপে চলমান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং চীনের পক্ষ থেকে আসা চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের সমাজ ও স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে।”

তিনি আরও যোগ করেন:

  • ন্যাটো (NATO) ইউরোপের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে থাকবে।
  • ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিজস্ব প্রতিরক্ষা খাতে জোরালোভাবে কাজ করছে।
  • ইইউ কোনো সংঘাত চায় না, তবে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় শক্তিশালী ‘প্রতিরোধ ব্যবস্থা’ (Deterrence) গড়ে তুলতে হবে।

গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান ও আলোচনা

গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ড আন্তর্জাতিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা সংলাপ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে একটি কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব হবে যা গ্রিনল্যান্ডের ‘রেড লাইন’ বা সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।

প্রেক্ষাপট: যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

উল্লেখ্য যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছিলেন এবং এর বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সাথে বৈঠকের পর তিনি সেই হুমকি প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ও বৃহত্তর আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে আলোচনা চলছে।