শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
বিবিসিসিআই’র ডিরেক্টর নির্বাচিত হলেন জহিরুল ইসলাম, আজীবন সদস্য পদ পেলেন কিবরিয়া ও মোর্তুজা<gwmw style="display:none;"></gwmw> দ্বিতীয় প্রান্তিকে সাব-ব্রাঞ্চে আমানত বেড়ে ৮৪,২৬৩ কোটি টাকা, ঋণ বিতরণ কমেছে ৭.৭ শতাংশ<gwmw style="display:none;"></gwmw> US cotton warehouse to launch in Chattogram in mid-November to boost bilateral trade তা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তীব্র আপত্তি<gwmw style="display:none;"></gwmw> রাজধানীতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ১১তম ‘বাপা ফুডপ্রো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ২০২৪’ ‘ওয়ান বাই মেটলাইফ’ অ্যাপে গ্রাহকদের জন্য নতুন ৪ ফিচার যুক্ত ২০২৮ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্য: ডিএসই ঋণের জামানত মূল্যায়নে ১৩১ প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্য অর্থায়ন বাড়াতে সিটি ব্যাংকে আইটিএফসির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল

আতাকামা ট্রেঞ্চ অভিযানে চীন ও চিলি: অতল সমুদ্রের রহস্য উন্মোচনে যৌথ গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে অবস্থিত আতাকামা ট্রেঞ্চের (Atacama Trench) রহস্য উন্মোচনে প্রথমবারের মতো যৌথ অভিযানে নেমেছে চীন ও চিলি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চিলির ভালপারাইসো বন্দরে চীনা গবেষণা জাহাজ ‘তান সুয়ো ই হাও’ (Exploration No. 1)-এর ডকিং এবং এই বিশেষ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।

অভিযানের লক্ষ্য ও পরিধি

এই বৈজ্ঞানিক অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো চিলি উপকূলের ৪৩৫ মাইল বিস্তৃত আতাকামা ট্রেঞ্চের জীববৈচিত্র্য এবং ভূতাত্ত্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা। প্রায় ৮,০০০ মিটার গভীর এই সামুদ্রিক গিরিখাতটি বিশ্বের অন্যতম চরম প্রতিকূল পরিবেশ হিসেবে পরিচিত। এই অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে চীনের অত্যাধুনিক মানবচালিত সাবমার্সিবল ‘ফেনদৌঝে’ (Fendouzhe), যা ১০,০০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।

অভিযানটির প্রধান গবেষক ডু মেংরান বলেন, “এটি বিশ্বের একমাত্র মানবচালিত সাবমার্সিবল যা সমুদ্রের তলদেশের হডাল জোনে (৬,০০০ মিটারের নিচে) দীর্ঘসময় কাজ করতে সক্ষম।”

গবেষণার তিনটি প্রধান দিক

এই তিন মাসব্যাপী অভিযানটি মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করবে:

১. দুর্যোগ প্রতিরোধ: প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে সুনামি সৃষ্টিকারী ভূমিকম্পের বেল্টগুলো নিয়ে গবেষণা করে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা।

২. জলবায়ু পরিবর্তন: কার্বন ‘রিসাইক্লার’ হিসেবে এই গভীর গিরিখাতটি কীভাবে ভূমিকা রাখছে তা খতিয়ে দেখা।

৩. বায়োমেডিসিন: সূর্যের আলোহীন পরিবেশে টিকে থাকা বিরল প্রাণীর অণুগুলো থেকে নতুন প্রজন্মের ওষুধ তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করা।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাইলফলক

চিলিতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত নিউ কিংবাও এই অভিযানকে দুই দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এটি চীন ও চিলির মধ্যে প্রথম যৌথ সমুদ্র গবেষণা অভিযান, যা প্রমাণ করে যে বিজ্ঞানের কোনো সীমানা নেই।”

চিলির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক আঞ্চলিক মন্ত্রী রদ্রিগো গঞ্জালেজ এই সহযোগিতাকে জ্ঞানের অন্বেষণে একটি ‘বিশাল উল্লম্ফন’ (Quantum Leap) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য, এই অভিযানটি জাতিসংঘের অনুমোদিত ‘গ্লোবাল হডাল এক্সপ্লোরেশন প্রোগ্রাম’-এর অধীনে প্রথম বড় ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। চীনা একাডেমি অব সায়েন্স এবং চিলির কনসেপসিওন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় এই মিশনটি পরিচালিত হচ্ছে।