ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর (বিডিইকোনমি): দেশের পুঁজিবাজারে ভালো ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রাথমিক জনপ্রস্তাব (আইপিও) এবং প্রস্তাবিত ‘ডাইরেক্ট লিস্টিং’ (সরাসরি তালিকাভুক্তি) কাঠামোর আওতায় কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যেসব কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য নতুন মূলধনের প্রয়োজন রয়েছে, তারা আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসতে পারে। আর যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই কিন্তু বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হতে চায়, তাদের জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিং একটি কার্যকর বিকল্প পথ হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন মূলধন সংগ্রহে আগ্রহী কোম্পানিগুলো বিদ্যমান ‘Bangladesh Securities and Exchange Commission (Public Offer of Equity Securities) Rules, 2025’ অনুসরণ করে আইপিওর আবেদন করতে পারবে। ইতোমধ্যে আবেদন করা বা আবেদন করতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর জন্য বিএসইসি স্পষ্ট করেছে যে, আইপিও বিধিমালার ভবিষ্যৎ কোনো সংস্কার বা পরিবর্তনের কারণে আবেদন স্থগিত বা বিলম্ব করার প্রয়োজন নেই। পরবর্তীতে নীতিমালায় কোনো ছাড় বা পরিবর্তন আনা হলে বর্তমান আবেদনকারীরাও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ওই সুবিধা পাবেন।
অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি জনসাধারণের কাছ থেকে নতুন মূলধন সংগ্রহ না করেই বাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায়, তাদের জন্য ‘Bangladesh Securities and Exchange Commission (Direct Listing of Securities on the Stock Exchange) Rules, 2026’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তা জনমত আহ্বানের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। অতি দ্রুত এটি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর হবে।
বিএসইসি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং কার্যকর হলে কোম্পানিগুলো কোনো নতুন শেয়ার ইস্যু না করেই বিদ্যমান শেয়ারধারীদের হাতে থাকা শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এর ফলে পুঁজিবাজারে নতুন ও মানসম্মত কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়বে, বাজারে শেয়ার সরবরাহ ও গভীরতা বৃদ্ধি পাবে এবং কোম্পানির প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকাভুক্তির পথ সুগম হবে।
কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, আইনগত ও নীতিগত এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার আরও স্বচ্ছ, বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে উঠবে।