ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর (বিডিইকোনমি): বাংলাদেশে পরিচালিত বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর টিকিট ট্রাভেল এজেন্সির সহায়তা ছাড়া সরাসরি আন্তর্জাতিক ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সুবিধার আওতায় টিকিট কেনাকে গ্রাহকের বাৎসরিক নির্ধারিত ভ্রমণ কোটার (ট্রাভেল এনটাইটেলমেন্ট) বাইরে রাখা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ (এফইপিডি-১) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, কার্যকর ভিসা থাকা সাপেক্ষে বাংলাদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করা বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর টিকিট আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে কিনতে পারবেন। যেসব বিদেশি এয়ারলাইন্সের টিকিট বিক্রির অর্থ আন্তর্জাতিক একোয়ারিং ও পেমেন্ট সেটেলমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে বিদেশে নিষ্পাপিত হয়, তারাও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে, এই ব্যবস্থার অধীনে আন্তর্জাতিক কার্ড দিয়ে টিকিট কেনা গ্রাহকের জন্য নির্দিষ্ট বার্ষিক ভ্রমণ কোটার অন্তর্ভুক্ত হবে না। ব্যাংকগুলো টিকিটের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে গ্রাহকের কার্ডে ব্যবহৃত সমপরিমাণ সীমা পুনর্পূরণ (রিফিল বা এডজাস্ট) করতে পারবে।
নির্দিষ্ট এই লেনদেনগুলো চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের জন্য নির্ধারিত মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) অনুসরণ করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, বিদেশের কোনো প্ল্যাটফর্ম থেকে বাংলাদেশি অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলোর টিকিট কেনার ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। স্বদেশী এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে প্রচলিত স্থানীয় নিয়মই বলবৎ থাকবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর টিকিট বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বিদ্যমান নিয়ম মেনে তাদের নিজ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সমন্বয় বা হিসাব করতে হবে। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রানজেকশন মনিটরিং (টিএম) মডিউলে রিপোর্ট করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. আবু বক্কার সিদ্দিক স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।