ঢাকা,১৬ সেপ্টেম্বর (বিডিইকোনমি) : ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই মেয়াদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সামগ্রিক তৈরি পোশাক আমদানি বাজার ৫.১০ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এই সময়ে ইইউ বিশ্ববাজার থেকে ৫১.৬১৩ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে, যা ২০২৫ সালের একই মেয়াদে ছিল ৫৪.৩৮৮ বিলিয়ন ইউরো।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেলের উপস্থাপিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য ৭ মাসে ইইউর মোট পোশাক আমদানির পরিমাণ পরিমাণের দিক থেকেও ৩.২৩ শতাংশ কমে ২,৬০১.৭৮ মিলিয়ন কেজিতে নেমে এসেছে, যা আগের বছর ছিল ২,৬৮৮.৬৬ মিলিয়ন কেজি। বিশ্ববাজারের গড় ইউনিট দর ১.৯৩ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ১৯.৮৪ ইউরোতে দাঁড়ায়।
সামগ্রিক বাজার সংকোচনের তুলনায় ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দর ও পরিমাণের দিক থেকে বেশি কমেছে। জানুয়ারি-জুলাই মেয়াদে মূল্যমানে বাংলাদেশে রপ্তানি কমেছে ১৩.৬৫ শতাংশ এবং পরিমাণে কমেছে ৫.৬৬ শতাংশ। ফলে বাংলাদেশ বাজারে তার শেয়ার কিছু অংশ হারিয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের গড় মূল্য ৮.৪৭ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ১৩.৮০ ইউরোতে দাঁড়িয়েছে।
এর বিপরীতে, সামগ্রিক বাজার কমলেও চীন ও ভিয়েতনাম যথাক্রমে ১.৮৯ শতাংশ এবং ৩.৯২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। দর বৃদ্ধির পরও দেশ দুটি ভালো পারফর্ম করেছে; যেখানে ভিয়েতনামের গড় ইউনিট দর ১১.৭৬ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ৭.৮৬ শতাংশ বেড়েছে।
জুন ও জুলাইয়ে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
সামগ্রিক ৭ মাসের হিসাব ঋণাত্মক থাকলেও, বছরের মাঝামাঝি এসে জুনে ও জুলাইয়ে বাংলাদেশের রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
- জুন-জুলাইয়ের শক্তিশালী লাফ: ২০২৬ সালের জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২৬.৫০ শতাংশ বা ৩৬২.৩৫ মিলিয়ন ইউরো এক লাফে বেড়ে ১.৩৬৭ বিলিয়ন ইউরো থেকে ১.৭২৯ বিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত হয়েছে।
- জুন মাসের প্রবৃদ্ধি: ২০২৫ সালের জুনে রপ্তানি ছিল ১.৩৫৫ বিলিয়ন ইউরো, যা ২০২৬ সালের জুনে ০.৮৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১.৩৬৭ বিলিয়ন ইউরোতে।
- জুলাই মাসের প্রবৃদ্ধি: ২০২৫ সালের জুলাইয়ের ১.৬৬৭ বিলিয়ন ইউরোর বিপরীতে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৭২ শতাংশ, যেখানে রপ্তানির পরিমাণ পৌঁছায় ১.৭২৯ বিলিয়ন ইউরোতে।
টানা দুই মাসের এই একক প্রবৃদ্ধির কারণে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসের (জানুয়ারি-মে) বড় পতন অনেকটাই কমে এসেছে। জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বার্ষিক পতন যেখানে ১৬.৪৩ শতাংশে পৌঁছেছিল, জুলাই শেষে তা ২.৭৮ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ১৩.৬৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক পতন এখনো দুই অঙ্কে থাকায় এখনই পুরোপুরি পুনরুদ্ধার বলা না গেলেও, গত দুই মাসের টানা ঊর্ধ্বমুখী গতিধারা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ইতিবাচক মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।