মঙ্গলবার ৪ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের মূল চালিকাশক্তি শিল্প কারখানার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ: আইইইএফএ রিপোর্ট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে বিটিএমএ ও বিজিএমইএর যৌথ আয়োজনে ‘বিটমা’ প্রদর্শনী সোয়িফটের নতুন ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট স্কিমে বিশ্বের প্রথম ব্যাংক সিটি ব্যাংক<gwmw style="display:none;"></gwmw> অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ করে ৩,০০০ কোটি টাকা করলো ব্যাংক এশিয়া সোনালী ব্যাংকের ৫ করপোরেট শাখায় ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চ সীমা তুললো বাংলাদেশ ব্যাংক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সিটি ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়ে ৫২৬.৬৯ কোটি টাকা পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের অলিপার্কিক ব্যবস্থার অবসান ঘটানো হচ্ছে: অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৫.৪ শতাংশ লাফ: জুলাইয়ে এলো ২৮৫ কোটি ডলার

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের মূল চালিকাশক্তি শিল্প কারখানার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ: আইইইএফএ রিপোর্ট

ঢাকা, ৪ আগস্ট (বিডিইকোনমি) — ধীরগতির সূচনা হলেও বাংলাদেশে ডিস্ট্রিবিউটেড এনার্জি রিসোর্স (ডিইআর) খাত এখন দৃশ্যমান রূপ নিচ্ছে, যেখানে শিল্প কারখানার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুপটপ সোলার) দেশে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সম্প্রসারণের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যালাইসিস (আইইইএফএ)-এর মঙ্গলবার প্রকাশিত এক নতুন ব্রিফিং নোটে বলা হয়েছে, অন্যান্য ডিস্ট্রিবিউটেড উৎসের তুলনায় বাংলাদেশে ছাদভিত্তিক সোলারের সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দিনে বেলা বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা কিছুটা কমাতে ভূমিকা রাখছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের স্থাপনকৃত সক্ষমতা ৪১৮.১ মেগাওয়াট হলেও আইইইএফএ-এর অনুসন্ধানে আরও বড় চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বড় বড় শিল্প গ্রুপসহ মাত্র ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ছাদভিত্তিক সোলার সক্ষমতা ইতিমধ্যে ৬৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। ০.১৫ মেগাওয়াটের নিচের ছোট ছোট সংযোগগুলো হিসাব করলে দেশে ছাদভিত্তিক সোলারের প্রকৃত সক্ষমতা এখনই প্রায় ১,০০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি।

আইইইএফএ দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ এনার্জি লিড অ্যানালিস্ট এবং প্রতিবেদনের সহ-লেখক শফিকুল আলম বলেন, “২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশে গ্রিড-স্কেল পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা যেখানে ৮৫৯ মেগাওয়াট, সেখানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের এই ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি বার্তা।”

প্রতিবেদনে এই খাতের শক্তিশালী গতির কথা তুলে ধরে বলা হয়, বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) কোম্পানিগুলোর হাতে ৫০০ মেগাওয়াটেরও বেশি ক্ষমতার নতুন প্রকল্পের কাজ রয়েছে। এছাড়া সরকারের সাম্প্রতিক কৌশলগত নীতিমালায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০,৪৫০ মেগাওয়াট নতুন নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রার কথা বলা হয়েছে, যার ৫০ শতাংশেরও বেশি (৫,৫০০ মেগাওয়াট) অর্জন করা হবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে।

নেট মিটারিং নির্দেশিকা ও কম খরচে অর্থায়নের সুযোগ থাকলেও মূলত বিদ্যুতের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধিই শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ছাদভিত্তিক সোলার স্থাপনের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।

তবে উচ্চ আমদানি শুল্ক এখনও এই খাতের বড় বাধা। সরকার শুল্ক কাঠামো সংশোধন করলেও শিল্প খাতের ছাদভিত্তিক সোলার প্রকল্পের আমদানি শুল্ক আগের মূলধনী যন্ত্রপাতির ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৭ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কঠোর শর্তের কারণে ছোট গ্রামীণ প্রকল্পগুলো শুল্ক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, সব ধরনের ছাদভিত্তিক সোলার প্রকল্পে শুল্ক সম্পূর্ণ মওকুফ করা হলে উৎপাদন খরচ অনেক কমবে এবং বাংলাদেশ ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা সহজে পূরণ করতে পারবে। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সফল অভিজ্ঞতা টেনে গবেষণায় ক্যাপিটাল সাবসিডি বা মূলধনী ভতুর্কি, শুল্ক ছাড়, স্মার্ট মিটারের ধাপে ধাপে ব্যবহার এবং ছাদভিত্তিক সোলারের সাথে ব্যাটারি স্টোরেজ যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।

ছাদের পাশাপাশি প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের ডিজেল-নির্ভর কৃষি খাতের বিশাল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশে বর্তমানে ব্যবহৃত ডিজেলচালিত সেচ পাম্পগুলোর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সৌরবিদ্যুতে রূপান্তর করা সম্ভব হলে বছরে ডিজেল আমদান বাবদ প্রায় ২৪ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা) সাশ্রয় করা সম্ভব।

বিদ্যমান কাঠামোগত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে আইইইএফএ সুপারিশ করেছে যে, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় যেন নেট মিটারিংয়ের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে, যাতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব রোধ করা যায়।

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ও পূর্বাভাস সহজ করতে ছাদভিত্তিক সোলারের মতো ডিইআর প্রযুক্তিতে ধীরে ধীরে স্মার্ট মিটার চালুর পাশাপাশি ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন