ঢাকা, ৪ আগস্ট (বিডিইকোনমি) — রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসির গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি করপোরেট শাখায় দীর্ঘদিনের ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চ সীমা বা ক্যাপ তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে এসব শাখা এখন থেকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বড় ও যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের পুনর্নবীকরণ বা নতুন ঋণ দিতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৫টি শাখার ঋণ বিতরণের সীমা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া হলো। শাখাগুলো হলো— ঢাকায় অবস্থিত স্থানীয় কার্যালয় (লোকাল অফিস), ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখা, শিল্প ভবন করপোরেট শাখা, শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ করপোরেট শাখা এবং চট্টগ্রামে অবস্থিত লালদিঘী করপোরেট শাখা। সোনালী ব্যাংকের আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে।
পূর্বে এসব শাখায় ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর সীমারেখা নির্ধারিত ছিল। শাখাভেদে একজন গ্রাহকের অনুকূলে ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৫ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত। নতুন নির্দেশনার পর রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকটির সব শাখা এখন থেকে নিজস্ব ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও প্রচলিত নীতিমালা মেনে সব যোগ্য গ্রাহককে ঋণ দিতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে এবং বড় করপোরেট গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে সোনালী ব্যাংক ঋণ সীমা প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন জানিয়েছিল। আবেদনে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যাংকের বেশিরভাগ বড় ও স্বনামধন্য গ্রাহকের হিসাব এই পাঁচটি শাখায় থাকলেও নির্ধারিত ঋণ সীমার কারণে তাঁদের প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
তবে নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই (ডু ডিলিজেন্স) নিশ্চিত করা এবং বিতর্কিত বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহকদের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোনালী ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পূর্বে ঋণ সীমা নির্ধারিত থাকার কারণে অনেক যোগ্য ও ভালো গ্রাহককে ফিরিয়ে দিতে হতো। এখন সীমা তুলে নেওয়ায় ব্যাংক সাধারণ নিয়ম মেনে যেকোনো যোগ্য আবেদনকারীর ঋণ প্রক্রিয়া করতে পারবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে বহু বছর আগে সোনালী ব্যাংকের এসব গুরুত্বপূর্ণ শাখায় ঋণ বিতরণে সীমা আরোপ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১২ সালে হল-মার্ক ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনার পর এসব শাখার ওপর তদারকি ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হয়।
এর আগে গত জুন মাসে স্থানীয় কার্যালয় শাখার জন্য ঋণের সীমা ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জুলাই মাসে সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাকি চার শাখাসহ সমস্ত সীমা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে পুনরায় চিঠি পাঠানো হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়।