রবিবার ২ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সিটি ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়ে ৫২৬.৬৯ কোটি টাকা পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের অলিপার্কিক ব্যবস্থার অবসান ঘটানো হচ্ছে: অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৫.৪ শতাংশ লাফ: জুলাইয়ে এলো ২৮৫ কোটি ডলার ৪ কোটি ডলার বকেয়া বিরোধ: বাংলাদেশে পোশাক ক্রয় স্থগিত করল পোল্যান্ডের এলপিপি এসএ আলুর তীব্র সংকট: বিদ্যুৎ বিলে ২০% ছাড় ও রফতানিতে ৩০% প্রণোদনার দাবি কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের বিজিএমইএর নতুন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মেজর জেনারেল শাহেদুল ইসলাম তীব্র গরমে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি কর্মঘণ্টা হারাবে ঢাকা: বিশ্বব্যাংক চামড়া খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২,০০০ কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠন

পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের অলিপার্কিক ব্যবস্থার অবসান ঘটানো হচ্ছে: অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

ঢাকা, জুলাই ২ (বিডিইকোনমি)- অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রাজনৈতিক অর্থনীতির মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতকে গুটি কয়েক অলিগার্ক বা কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাতে বন্দি করে রাখা হয়েছিল।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার নাগরিকদের সরাসরি জ্বালানি খাতের উদ্ভাবনে সম্পৃক্ত করে এবং ক্লিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করছে।

রোববার রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি: দ্য ফিউচার সোলার সলিউশন ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার ও যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে ইআরএফ এবং ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি প্ল্যাটফর্ম (ডিআরইপি)।

পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বিস্তার ঘটাতে দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলনের ওপর জোর দিয়ে ড. তিতুমীর তিনটি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করেন: পরিবেশ রক্ষায় পরিষ্কার জ্বালানি ব্যবহারে জনসচেতনতা তৈরি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি জনগণের দাবি সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা এবং গ্রামীণ এলাকায় ক্ষুদ্রমানের সোলার প্যানেল বসাতে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে (মাইক্রোফাইন্যান্স) কাজে লাগানো।

তিনি বলেন, “আমরা যদি রান্নার কাজে সৌরবিদ্যুতের বাস্তবসম্মত ব্যবহার প্রদর্শন করতে পারি, তবে বহু মানুষ সৌর বিদ্যুৎব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, নবায়নযোগ্য শক্তির গতিশীল ব্যবহার বাড়াতে সাশ্রয়ী স্টোরেজ বা ব্যাটারি ব্যবস্থার উদ্ভাবন প্রয়োজন।

সৌরবিদ্যুৎকে আরও সাশ্রয়ী করতে বাংলাদেশে সোলার প্যানেল ও স্টোরেজ ব্যাটারি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে সরকার নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। বর্তমান সরকার “জনগণের এবং জনগণের জন্য” গঠিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি খাতের সংকট নিরসনে উদ্ভাবন ও জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

ডিআরই-এর সমন্বয়ক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্ম অংশীদারদের পক্ষে বেশ কয়েকটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়:

  • ‘ইপিসি ও শিল্প সংশ্লিষ্টদের চ্যালেঞ্জসমূহ’ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) কোম্পানি সচিব এ.এস.এম. মুনীর।
  • ‘ডিআরই প্রযুক্তির গ্রহণ ও স্থায়িত্বে সচেতনতার ভূমিকা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন কোস্টাল লিভলিহুড অ্যান্ড এ এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) নির্বাহী প্রধান হাসান মেহেদী।
  • ‘ডিআরই-এর ভবিষ্যতে স্টোরেজ ব্যবস্থার ভূমিকা’ তুলে ধরেন সোলশেয়ার (SOLshare)-এর ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইনোভেশন পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ।
  • ‘ডিআরই সম্প্রসারণে অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ ও অগ্রাধিকার’ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার (জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন) আবুল আজাদ।

অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মোঃ মেহেদী হাসান শামীম আলোচক ও উপস্থাপক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে ডিআরইপি “রিনিউয়েবলস ইন বাংলাদেশ” শিরোনামে নতুন একটি পাবলিক রিসোর্স ওয়েবসাইট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে। দ্য সানরাইজ প্রজেক্টের অধীনে পরিচালিত ডিআরইপি হলো সিপিডি, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, সোলশেয়ার, বিএসআরইএ এবং ক্লিনের একটি যৌথ উদ্যোগ, যা দেশের ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জির নীতি, আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন, জাতীয় বিদ্যুতায়ন বিস্তার লাভ করলেও কেবল গ্রিড সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়। ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি (ডিআরই) বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্যতার ঘাটতি পূরণ করে, ব্যয়বহুল আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমায় এবং সরাসরি গ্রাহকের দোরগোড়ায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়। দুই কোটিরও বেশি অফ-গ্রিড নাগরিককে বিদ্যুতায়িত করা সোলার হোম সিস্টেমের (এসএইচএস) সফলতার ওপর ভিত্তি করে ডিআরই এখন রুফটপ সোলার, সৌর সেচ এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ প্রযুক্তিতে বিস্তৃত হচ্ছে।

সেমিনারে উপস্থাপিত মূল সুপারিশসমূহ:

  • আবাসিক খাত: নেট মিটারিং নীতি সহজ করা, অনুমোদন দ্রুত নিশ্চিত করা এবং সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি একক ডিজিটাল আবেদন প্ল্যাটফর্ম চালু করা। আংশিক ক্রেডিট গ্যারান্টি ও ‘পে-অ্যাজ-ইউ-সেভ’ মডেলের মাধ্যমে ডেডিকেটেড গ্রিন ফাইন্যান্সিং চালু করা, জরুরি পিভি (PV) যন্ত্রাংশের শুল্ক যৌক্তিক করা, স্রেডা (SREDA), ইউটিলিটি ও বিইআরসি-র (BERC) মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করা এবং পুরনো সোলার হোম সিস্টেমগুলোকে হাইব্রিড গ্রিড-টাইড সিস্টেমে রূপান্তর করা।
  • শিল্প খাত: ওপিইএক্স (OPEX) ঋণ পাওয়ার পথ উন্মুক্ত করতে পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্টকে (পিপিএ) ব্যাংকযোগ্য জামানত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি ‘রেসকো (RESCO) কোল্যাটেরাল ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরি করা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন রিফাইন্যান্সিং স্কিমকে একক-স্তরের অর্থছাড়ে রূপান্তর করা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট মূল্যায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
  • সৌর সেচ: সৌর সেচ পাম্পগুলোকে (এসআইপি) কৃষকদের যৌথ মালিকানা মডেলে রূপান্তর করা, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রির জন্য দেশব্যাপী নেট মিটারিং সম্প্রসারণ করা, ডিজেল ভতুর্কি ধাপে ধাপে তুলে নিয়ে এসআইপি লাইসেন্সিং সহজ করা, কৃষি সরঞ্জাম অর্থায়নের সাথে এসআইপি সংযুক্ত করা এবং দিনের বেলা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচীর সাথে সেচ সচেতনতা অভিযান পরিচালনা করা।
  • প্রযুক্তি গ্রহণ ও স্থায়িত্ব: কেবল প্রাথমিক সংযোগ নয়, বরং প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার পর্যবেক্ষণে স্রেডা-র (SREDA) নেতৃত্বে একটি জাতীয় ডিআরই সমন্বয়কারী কমিটি গঠন করা; ব্যবহারকারীর মতামত গ্রহণ ব্যবস্থা ও ফিল্ড অডিট প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া; পারফরম্যান্স-ভিত্তিক সার্ভিস চুক্তির জন্য স্থানীয় টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সকল প্রযুক্তির জন্য একটি কেন্দ্রীয় রিয়েল-টাইম ডিআরই মনিটরিং সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা।

আরও পড়ুন