মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ৪১২ কোটি ডলার: উপদেষ্টা তিতুমীর সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করল সরকার নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ: ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ ছাড়িয়েছে ১৪,৫১৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত সার্কুলার জারি গবেষণা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান: এইউএসটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শুরু ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ, মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

বাংলাদেশে প্রথম ‘জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন’ প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: নৈতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রথম ‘জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এআই গ্রহণের মাধ্যমে অধিকার সুরক্ষা, অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার পথনির্দেশক হিসেবে এই প্রতিবেদনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (আজ) ঢাকার আইসিটি টাওয়ারে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অডিটোরিয়ামে এক যৌথ আয়োজনে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, এস্পায়ার টু ইনোভেট (এটুআই), জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সরকারি-বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

প্রতিবেদনের মূল চিত্র: ভিত্তি সুদৃঢ়, চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান

প্রতিবেদনটিতে এআই বিষয়ে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক, আইনগত, সামাজিক ও কারিগরি প্রস্তুতির প্রথম সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল সরকার ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলেছে এবং সরকারি ডিজিটাল সেবার প্রতি নাগরিকদের আস্থার মাত্রাও উচ্চমানের।

তবে প্রতিবেদনে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ঢাকার বাইরে অনিয়মিত ইন্টারনেট সংযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ।
  • লিঙ্গভিত্তিক ও দেশের দীর্ঘস্থায়ী ডিজিটাল বৈষম্য।
  • উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা।
  • তথ্য সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধির ঘাটতি।

প্রধান অতিথির আহ্বান: এআই যেন অধিকার সুরক্ষিত করে

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, বাংলাদেশ এমন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে এখন নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আগামী কয়েক দশক ধরে সমাজকে প্রভাবিত করবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই প্রতিবেদন আমাদের স্পষ্টভাবে দেখায়, আমরা কোন অবস্থানে আছি এবং কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিচারের বিকল্প না হয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করে এবং নাগরিকদের শোষণ না করে তাদের অধিকার সুরক্ষিত করে।”

আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী চলমান নীতি-প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এই প্রতিবেদনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নীতি-নির্ধারণ হতে হবে প্রমাণ নির্ভর, অনুমাননির্ভর নয়। তার মতে, এই প্রতিবেদনের ফলাফল স্পষ্ট বিধান প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং এমন সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে, যাতে জনসেবায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা ব্যাখ্যাযোগ্য, জবাবদিহিমূলক এবং জাতীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।

দর্পণ ও রূপরেখা: জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর মন্তব্য

বাংলাদেশে ইউনেস্কো কার্যালয়ের প্রধান ও আবাসিক প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ প্রতিবেদনটিকে একই সঙ্গে ‘একটি দর্পণ এবং একটি রূপরেখা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি একদিকে যেমন শাসনব্যবস্থা, অবকাঠামো, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থার অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন, অন্যদিকে অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ নির্ধারণে সহায়ক সুস্পষ্ট রূপরেখা।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার বলেন, এআই ব্যবধান কমাবে নাকি বাড়াবে তা নির্ভর করবে দেশগুলো এখন কী সিদ্ধান্ত নেয় তার ওপর। সংযোগ, দক্ষতা, ডেটা এবং কম্পিউটিং অবকাঠামো শক্তিশালী করা, নির্ভরযোগ্য নিয়ন্ত্রক ও শাসন কাঠামো তৈরি করা এবং জাতীয় সক্ষমতার সাথে এআই কৌশলগুলোকে খাপ খাইয়ে নেওয়া এই সবকিছুই নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে।

এটুআই কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহা. আবদুর রফিক প্রতিবেদনে উত্থাপিত সুপারিশগুলোকে সেবাদানে দৃশ্যমান উন্নতিতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।