চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশ বিনিয়োগে আগ্রহী; ব্লু-ইকোনমিতে ইউরোপীয় বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে বিশেষ অগ্রাধিকার।
ঢাকা, ২৬ জুলাই (বিডিইকোনমি): ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার জোর তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত “রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি-২০২৬: দ্য ক্যাপিটাল ডায়ালগ” শীর্ষক এক রুদ্ধদ্বার গোলটেবিল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন খাতে কীভাবে বিনিয়োগ করা যায় সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই অনেক দেশ আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।”
ব্লু-ইকোনমি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে অগ্রাধিকার
এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ক্ষেত্র। তিনি বলেন, “আমরা চাই ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এই সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ করুক। বাংলাদেশে বিশেষ করে ব্লু-ইকোনমিতে বিপুল সুযোগ রয়েছে। সমস্যাগুলো টেবিলে এনে দ্রুত সমাধানের পথে হাঁটতেই আমরা এ ধরনের আলোচনা বাড়াব।”
তিনি আরও জানান, নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক কূটনীতিকে (Economic Diplomacy) সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।
নতুন অর্থনৈতিক মডেল ও ব্যাকগ্রাউন্ড
বিদ্যমান আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রশাসনিক সংস্কার, শিল্পের পুনরুজ্জীবন এবং দীর্ঘমেয়াদী কৃষি রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন অর্থনৈতিক মডেল তৈরি করছে সরকার।
উল্লেখ্য, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি প্রসারের অংশ হিসেবে গত ১৩ জুন ঢাকায় প্রথম ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিডার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “নেভিগেটিং রিস্কস – আনলকিং রেজিলিয়েন্স”।