বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
বিবিসিসিআই’র ডিরেক্টর নির্বাচিত হলেন জহিরুল ইসলাম, আজীবন সদস্য পদ পেলেন কিবরিয়া ও মোর্তুজা<gwmw style="display:none;"></gwmw> দ্বিতীয় প্রান্তিকে সাব-ব্রাঞ্চে আমানত বেড়ে ৮৪,২৬৩ কোটি টাকা, ঋণ বিতরণ কমেছে ৭.৭ শতাংশ<gwmw style="display:none;"></gwmw> US cotton warehouse to launch in Chattogram in mid-November to boost bilateral trade তা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তীব্র আপত্তি<gwmw style="display:none;"></gwmw> রাজধানীতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ১১তম ‘বাপা ফুডপ্রো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ২০২৪’ ‘ওয়ান বাই মেটলাইফ’ অ্যাপে গ্রাহকদের জন্য নতুন ৪ ফিচার যুক্ত ২০২৮ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্য: ডিএসই ঋণের জামানত মূল্যায়নে ১৩১ প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্য অর্থায়ন বাড়াতে সিটি ব্যাংকে আইটিএফসির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল

বাজেট ২০২৬-২৭: সংস্কার প্রস্তাবকে ফিকির স্বাগত, তবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয়

ঢাকা, (বিডিইকোনমি) : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এবং অর্থবিল ২০২৬-কে স্বাগত জানিয়েছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শীর্ষ সংগঠন দ্য ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই/ফিকি)। সংগঠনটি সরকারের কৌশলগত ‘৩আর’ (রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন) ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামোকে একটি বিনিয়োগ-বান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি প্রগতিশীল পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

তবে একই সঙ্গে সংগঠনটি আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা রক্ষা এবং ‘অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী’ কর আদায় বা মোট রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন বড় ধরনের ব্যবহারিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করছে ফিকি।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফিকি জানায়, প্রস্তাবিত অর্থবিল ২০২৬-এ কর, ভ্যাট এবং শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্পষ্টীকরণ, সরলীকরণ, সহজ অনুমিতিযোগ্যতা এবং ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে একটি সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি লক্ষ্য করা গেছে।

কর্পোরেট তারল্য বাড়াতে ইতিবাচক পদক্ষেপ

রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং করপোরেট তারল্য বা নগদ প্রবাহ সুরক্ষায় বেশ কয়েকটি কাঠামোগত সংস্কারের প্রশংসা করেছে ফিকি। একটি বড় মাইলফলক হিসেবে তারা উল্লেখ করেছে—উৎস কর (টিডিএস)-কে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই সিদ্ধান্তটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকরী মূলধনের সংকট অনেকটাই দূর করবে।

এছাড়া প্রস্তাবিত স্বয়ংক্রিয় ও ফেসলেস (উন্মোচনহীন) কর ফেরত ব্যবস্থা, ভ্যাট রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া মাসিক থেকে প্রান্তিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে রূপান্তর এবং উৎসে কর না কাটার কারণে বৈধ ব্যবসায়িক খরচকে অগ্রহণযোগ্য করার বিধান বাতিলকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি।

শিল্পায়নকে আরও উৎসাহিত করতে কাঁচামাল আমদানি, বৈদেশিক ঋণের সুদ এবং যন্ত্রপাতি ভাড়ার ওপর উৎসে করের হার কমানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ‘বাংলাবিজ’ (BanglaBiz) প্ল্যাটফর্ম চালু এবং লভ্যাংশ বা মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছে চেম্বারটি।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

প্রস্তাবিত বাজেটের বেশ কিছু ইতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও বিদেশি এই চেম্বারটি এমন কিছু জটিল বিষয় চিহ্নিত করেছে যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। ফিকি উল্লেখ করেছে, করপোরেট করের হার অপরিবর্তিত রাখা হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা কমানোর কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বা রূপরেখা না থাকা আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের তুলনায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে বাংলাদেশের অবস্থানকে দুর্বল করবে।

চেম্বারটি আরও কিছু কাঠামোগত সমন্বয়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • দক্ষ কর্মী নিয়োগে খরচ বৃদ্ধি: সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত আয়করের হার বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করায় দক্ষ বিদেশি পেশাদারদের নিয়োগ দেওয়ার খরচ অনেক বেড়ে যাবে।
  • ই-ভ্যাট বাধ্যতামূলক করার ঝুঁকি: কোনো ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন সময় বা মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই বড় এবং বহুজাতিক করদাতাদের জন্য ই-ভ্যাট (eVAT) সম্পূর্ণরূপে বাধ্যতামূলক করা হলে তা মারাত্মক পরিচালন জটিলতা তৈরি করতে পারে।
  • খুচরা পর্যায়ে করের বোঝা: খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে প্রস্তাবিত ০.২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আদায়ের বাধ্যবাধকতা বিশাল পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, তাই এটি প্রত্যাহার করা উচিত।

ফিকি সরকারকে সব ধরনের আর্থিক নীতি ও কর ব্যবস্থা পূর্ববর্তী সময় থেকে কার্যকর (Retrospective) না করে, ভবিষ্যৎ সময়ের জন্য (Prospective) কার্যকর করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। কারণ হিসেবে তারা জানায়, পেছনের তারিখ থেকে কোনো নীতি কার্যকর করলে তা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে। এছাড়া সংগঠনটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিগুলোর জন্য ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেনের প্রণোদনা সম্প্রসারণ এবং অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় বাড়াতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বিনিয়োগ রেয়াত সুবিধা পুনর্বহালের সুপারিশ করেছে।

ম্যাক্রো-ইকোনমিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক চিত্র

সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর পর্যালোচনায় ফিকি উল্লেখ করেছে যে, প্রস্তাবিত ৯ লাখ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ব্যয়—যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ—তা একটি বড় ধরনের বার্ষিক সম্প্রসারণকে নির্দেশ করে।

সংগঠনটি পরিশেষে জোর দিয়ে বলেছে যে, ব্যয় এবং রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে যে বড় ব্যবধান রয়েছে, তা পূরণে রাজস্ব সচলতা জোরদার করা, সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।