শুক্রবার ৯ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
সিএমএসএমই খাতের ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল নভেম্বরের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশে সাশ্রয়ী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে আগ্রহী তুরস্ক, এফএসআরইউ ও এলএনজি খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব ক্যাশলেস স্বাস্থ্যসেবা প্রসারে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট চালু<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড জ্বালানি সংকটে থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির গতি, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের ট্যাক্স হ্যাভেনের দিন শেষ, বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল বদলাচ্ছে: আইএমএফ আজকের ডিজিটালের ব্যবধান যেন আগামী দিনের এআই ডিভাইডে পরিণত না হয়: ইস্তাম্বুলে আইসিটি মন্ত্রী জাহাজশিল্পের বিশ্ববাজার ধরতে অনুমোদন সহজ করার উদ্যোগ, দ্রুত টিএসডিএফ স্থাপনের নির্দেশ ঢাকায় এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম উপেক্ষা করে দেদারসে বাড়তি আদায়

ব্যাংক লুটেরাদের বিচার ও পাচারকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আইনজীবীদের স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ব্যাংকিং খাতে লুটপাট, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে আইনি পেশাজীবীদের সংগঠন ‘ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশ’। মঙ্গলবার সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল এই স্মারকলিপি জমা দেয়।

স্মারকলিপিতে আইনজীবীরা দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইসলামি ব্যাংকগুলোতে সৃষ্ট তীব্র তারল্য সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, হাজার হাজার আমানতকারী নিজেদের জমানো টাকা তুলতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংগঠনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, “ব্যাংকিং খাত বর্তমানে চরম জরুরি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে ফিরে আসছেন; কাউকে মাত্র দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেক ব্যাংক কোনো নগদ টাকাই দিতে পারছে না।”

একটি হৃদয়বিদারক উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী তার চিকিৎসার জন্য ব্যাংক থেকে দেড় কোটি টাকা তুলতে পারছিলেন না। অথচ তার একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা ছিল। ব্যাংক তাকে মাত্র ৫ হাজার টাকা নিয়ে যেতে বলেছে। এটি আমাদের আর্থিক খাতের এক করুণ ব্যর্থতা।”

সমাবেশে সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামান অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি একটি বিশেষ গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রভাব ও গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে জোরপূর্বক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দখল করে নেয়। তিনি দাবি করেন, একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট প্রায় ২.৪০ লাখ কোটি টাকা বিশ্বের ৯টি দেশে পাচার করেছে। এই অর্থ অবিলম্বে ফেরত এনে প্রকৃত আমানতকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

স্মারকলিপিতে আইনজীবীরা রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর ‘অবৈধ নিয়োগ’ বাতিলেরও দাবি জানান, যাদের মাধ্যমে আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এ সময় সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজোলিউশন অ্যাক্ট’ নিয়ে তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেন আইনি পেশাজীবীরা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই আইনের কিছু ধারা সাবেক বিতর্কিত পরিচালক ও লুটেরাদের ‘পুনর্বাসনের’ সুযোগ করে দিতে পারে। স্মারকলিপিতে বিতর্কিত এই ধারাগুলো বাতিলের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক এক সময় দেশের অর্থনীতির শক্তিশালী স্তম্ভ ছিল। কিন্তু দেশি-বিদেশি একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এই ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিয়েছে। তারা পুরো খাতের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে এনে আমানত ও বিনিয়োগ কার্যক্রম স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান।

পূর্বনির্ধারিত আবেদন সত্ত্বেও গভর্নরের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ না মেলায় তার দপ্তরে স্মারকলিপিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়। ভয়েস অব লয়ার্স হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, চিহ্নিত লুটেরা ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে তারা আমানতকারীদের অধিকার রক্ষায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।