ঢাকা, ২৮ অক্টোবর (বিডি ইকোনমি): দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য ব্যাপক আইনি সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
বুধবার ঢাকায় এক হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি স্টাডিজ (বিল্স) এবং ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “যুব সম্মেলন ২০২৬: নেতৃত্ব, নেটওয়ার্কিং ও অভিজ্ঞতা বিনিময়” শীর্ষক জাতীয় যুব সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়। জেনারেশনাল লিডারশিপ গ্যাপ দূর করা এবং শ্রমবাজারের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার লক্ষ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে সিনিয়র ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, শিক্ষাবিদ ও একাডেমি অব ওয়ার্কের (এওডব্লিউ) প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১০০ জন অংশ নেন।
বিল্সের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা বাংলাদেশের শ্রম খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অথচ অবহেলিত একটি ক্ষেত্র।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিল্সের সিনিয়র অফিসার মো. সায়দুজ্জামান মিঠু জানান, ২০০৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ কর্মী কাজের জন্য বিদেশে গেছেন। রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির একটি প্রধান স্তম্ভ হওয়া সত্ত্বেও, এর প্রায় ৭৭ শতাংশ কর্মীই স্বল্প বা অর্ধদক্ষ হওয়ায় তারা অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, প্রতারণা ও কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) ৯ দফা দাবি এবং শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও শ্রম নেতারা বলেন, তরুণ ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীরা মাইগ্রেন্ট ডেস্ক ও সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অধিকারভিত্তিক অভিবাসন নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। আইসোশ্যালের চেয়ারপারসন ড. অনন্য রায়হান উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে অভিবাসনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাবের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের অবস্থার উন্নয়নে ট্রেড ইউনিয়নকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য।
বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সম্পাদক পুলক রঞ্জন ধর এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাসরিন আখতার দিনা বলেন, দক্ষতার অভাব, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, বিদেশে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না পাওয়া, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং নারী শ্রমিকদের যথাযথ প্রাক-প্রস্থান প্রশিক্ষণের অভাবেই ঝুঁকি বাড়ছে।
সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে কেবল দেশীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অভিবাসী শ্রমিকদের সংগঠিত করা, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং আইনি সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।