ঢাকা, ৮ অক্টোবর (বিডিইকোনমি): বাংলাদেশে নিজেদের রিটেইল, ওয়েলথ অ্যান্ড রিটার্ন ব্যাংকিং (WRB) ব্যবসা বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বহুজাতিক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড পিএলসি। করপোরেট ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে নজরদারি বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসা জোরদারে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড পিএলসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, অভিজ্ঞতা এবং স্বতন্ত্র সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে—সেসব ব্যবসায় জোর দেওয়ার কৌশল হিসেবে এই সিদ্ধান্ত। তবে সম্ভাবনাময় এই বিক্রয় প্রক্রিয়ার কারণে ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক কিংবা কর্মচারীদের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না। চূড়ান্ত হস্তান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকের সব স্বাভাবিক সেবা ও কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকবে।
আন্তর্জাতিক লেনদেন, প্রবাসীদের ব্যাংকিং সেবা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আন্তঃসীমান্ত মূলধন প্রবাহ এবং অবকাঠামো অর্থায়নের মতো করপোরেট ও ইনভেস্টমেন্ট খাতে উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করাই ব্যাংকটির মূল লক্ষ্য।
এ বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এনামুল হক বলেন, “বাংলাদেশে আমরা আমাদের ব্যবসায়িক অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করছি, যাতে আমাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক সক্ষমতা সর্বোচ্চ কাজে লাগানো যায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈদেশিক মূলধন প্রবাহ এবং অবকাঠামো অর্থায়নে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দেব। বাংলাদেশ আমাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় চুক্তি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার (রেগুলেটরি) অনুমোদন সাপেক্ষে ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা হস্তান্তরে আনুমানিক ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে। এই পুরো সময়ে গ্রাহকসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। করপোরেট ব্যাংকিং খাতের প্রসার ঘটিয়ে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।