ঢাকা, ৬ অক্টোবর (বিডিইকোনমি): বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর ফাঁকি ও কর ফাঁকির প্রবণতা রোধে আন্তর্জাতিক নীতিমালার কারণে বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল আমূল বদলে যাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ বা অতি-নিম্ন কর কাঠামোর সুবিধা দিয়ে বিনিয়োগ টানার দিন শেষ হয়ে এখন দেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর ভর করে প্রতিযোগিতা বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আইএমএফ-এর অক্টোবর ২০২৬ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের অংশ হিসেবে প্রকাশিত এক ব্লগে সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্লোবাল মিনিমাম কর কাঠামোর মতো আন্তর্জাতিক কর সংস্কারের ফলে বিদেশি বিনিয়োগ টানতে কর ছাড়ের গুরুত্ব দিন দিন কমে আসছে।
আইএমএফ উল্লেখ করেছে, কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন দেশ বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলোকে আকৃষ্ট করতে অতি-নিম্ন কর হার ও নানা ধরনের কর ছাড়ের সুবিধা দিয়ে আসছিল। তবে প্রফিট শিফটিং বা মুনাফা সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন কঠোর হওয়ায় দেশগুলো এখন তাদের বিনিয়োগ আকর্ষণ কৌশল পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
কর্পোরেট কর কমানোর অবাস্তব প্রতিযোগিতা বন্ধ করে এখন বিভিন্ন দেশ কর-বহির্ভূত প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—ভৌত ও ডিজিটাল অবকাঠামো জোরদারকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, নিয়ন্ত্রণমূলক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সহজ ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
ওয়াশিংটনভিত্তিক বৈশ্বিক এই ঋণদাতা সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই কৌশলগত পরিবর্তন উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জও নিয়ে এসেছে। যারা এতদিন শুধু কর ছাড়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিযোগিতা করত, অবকাঠামোগত ঘাটতি ও দুর্বল সুশাসনের কারণে সেসব দেশকে এখন দ্রুত কাঠামোগত সংস্কারের মুখোমুখি হতে হবে।
আইএমএফ বিশ্বের নীতিপ্রণেতাদের পরামর্শ দিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় কর প্রশাসনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ আইনি কাঠামোতে বেশি বিনিয়োগ করতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।