সোমবার ৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
ঢাকায় এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম উপেক্ষা করে দেদারসে বাড়তি আদায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে মূল ভিত্তি ‘বিশ্বাস’: তানভীর শাহরিয়ার গনি পরিকল্পিত নগরায়ণে জেলা ও সিটি করপোরেশনে নতুন মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তীব্র সংকটের মাঝেই বাড়ল এলপিজির দাম, খুচরা বাজারে অস্থিরতা জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার: রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য নীতির ওপর দায় চাপাচ্ছেন মার্কিন নাগরিকরা প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে সম্মত বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া ৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু হলো ‘রভি-দৃষ্টি ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’ রপ্তানি বাড়ছে, ভরসা এখনো পোশাকে—বৈচিত্র্যের নতুন ইঞ্জিন কি তৈরি হচ্ছে?<gwmw style="display:none;"></gwmw>

ঢাকায় এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম উপেক্ষা করে দেদারসে বাড়তি আদায়

আনিসুল ইসলাম নূর

ঢাকা, ৫ অক্টোবর (বিডিইকোনমি): প্রশাসনের অভিযান ও মোবাইল কোর্টের ভয়ে বিক্রেতারা গোপনে চড়া দামে এলপিজি বিক্রি করায় রাজধানী ঢাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে প্রকৃত চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় গত কয়েক বছর ধরেই সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হয়ে আসছে। বর্তমানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম তোয়াক্কা না করেই বাড়তি দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর প্রধান প্রধান এলাকাগুলোতে এলপিজি সিলিন্ডার একপ্রকার উধাও হয়ে গেছে। কিছু এলাকায় গ্রাহকরা ১২ কেজির সিলিন্ডার ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল হচ্ছে ১,৮৩৭ টাকা।

খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বিইআরসি নতুন দাম ঘোষণার পরদিনই সরবরাহকারী বা ডিলাররা ১২ কেজির সিলিন্ডারপ্রতি ২,২০০ টাকা পর্যন্ত দর নিচ্ছেন। তারা জানান, মঙ্গলবার থেকে নতুন চালানের সিলিন্ডার বাজারে প্রবেশ করতে পারে এবং বুধবার থেকে গ্রাহকদের ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে ২,৩০০ থেকে ২,৪০০ টাকা গুণতে হতে পারে।

বাজারের এই বিশৃঙ্খলার পেছনে দেশের বার্ষিক ১৪ থেকে ১৫ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতিকে দায়ী করছেন খাত বিশেষজ্ঞরা। সরকারি আদেশ থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ কম থাকায় বাজার ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, প্রাথমিক বটলিং ও সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোই ডিলারদের কাছে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২,১০০ থেকে ২,২০০ টাকায় মেমো কাটছে। ফলে মাঠপর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

বড় মগবাজার এলাকার এলপিজি সরবরাহকারী আব্দুল ওয়ারেস বলেন, “সরকার ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করলেও কোম্পানিগুলোই আমাদের কাছ থেকে ২,১০০ থেকে ২,২০০ টাকা নিচ্ছে। এর সাথে পরিবহন খরচ ও শ্রমিকদের মজুরি যোগ করলে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করব কীভাবে? কোম্পানি পর্যায়ে সরকার দর নির্ধারণ কার্যকর করতে না পারায় ভোক্তা পর্যায়ে দাম অনিবার্যভাবেই ২,৪০০ টাকায় গিয়ে ঠেকছে।”

অক্টোবর মাসের জন্য বেসরকারি এলপিজির খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১৫৩.০৬ টাকা (ভ্যাটসহ) নির্ধারণ করেছে বিইআরসি, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১৩২.০৮ টাকা। ফলে অন্যান্য সাইজের সিলিন্ডারের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ৫.৫ কেজির সিলিন্ডার ৮৪২ টাকা, ১২.৫ কেজি ১,৯১৩ টাকা, ১৫ কেজি ২,২৯৬ টাকা, ২০ কেজি ৩,০৬১ টাকা এবং ৪৫ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৬,৮৮৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ১১.৫৩ টাকা বাড়িয়ে ৮৪.৬২ টাকা করা হয়েছে। আর রেটিকুলেটেড পদ্ধতির এলপিজির দাম তরল অবস্থায় প্রতি কেজি১৪৯.৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ‘এলপি গ্যাস লিমিটেড’-এর ১২.৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৭৬.৯৩ টাকায় অপরিবর্তিত থাকলেও বাজারে তাদের মাত্র ২ শতাংশের কম শেয়ার থাকায় সাধারণ গ্রাহকরা এর সুবিধা পাচ্ছেন না।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধিকেই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ বলছে বিইআরসি। সেপ্টেম্বরে প্রোপেন ও বিউটেনের গড় সৌদি সিপি (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) প্রতি মেট্রিক টন ৬৪৭.৭৫ ডলার থেকে বেড়ে অক্টোবরে ৭১২.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিইআরসি বটলিং কোম্পানিগুলোকে সঠিক ভ্যাট চালান প্রদান এবং পোস্ট-বটলিং মূল্যসীমা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা সরকারের প্রতি বাজারের প্রকৃত চাহিদা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে আমদানির পথ সুগম করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে অস্থির এই জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হতে পারে।

ঢাকায় এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম উপেক্ষা করে দেদারসে বাড়তি আদায়

আনিসুল ইসলাম নূর

ঢাকা, ৫ অক্টোবর (বিডিইকোনমি): প্রশাসনের অভিযান ও মোবাইল কোর্টের ভয়ে বিক্রেতারা গোপনে চড়া দামে এলপিজি বিক্রি করায় রাজধানী ঢাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে প্রকৃত চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় গত কয়েক বছর ধরেই সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হয়ে আসছে। বর্তমানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম তোয়াক্কা না করেই বাড়তি দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর প্রধান প্রধান এলাকাগুলোতে এলপিজি সিলিন্ডার একপ্রকার উধাও হয়ে গেছে। কিছু এলাকায় গ্রাহকরা ১২ কেজির সিলিন্ডার ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল হচ্ছে ১,৮৩৭ টাকা।

খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বিইআরসি নতুন দাম ঘোষণার পরদিনই সরবরাহকারী বা ডিলাররা ১২ কেজির সিলিন্ডারপ্রতি ২,২০০ টাকা পর্যন্ত দর নিচ্ছেন। তারা জানান, মঙ্গলবার থেকে নতুন চালানের সিলিন্ডার বাজারে প্রবেশ করতে পারে এবং বুধবার থেকে গ্রাহকদের ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে ২,৩০০ থেকে ২,৪০০ টাকা গুণতে হতে পারে।

বাজারের এই বিশৃঙ্খলার পেছনে দেশের বার্ষিক ১৪ থেকে ১৫ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতিকে দায়ী করছেন খাত বিশেষজ্ঞরা। সরকারি আদেশ থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ কম থাকায় বাজার ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, প্রাথমিক বটলিং ও সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোই ডিলারদের কাছে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২,১০০ থেকে ২,২০০ টাকায় মেমো কাটছে। ফলে মাঠপর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

বড় মগবাজার এলাকার এলপিজি সরবরাহকারী আব্দুল ওয়ারেস বলেন, “সরকার ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করলেও কোম্পানিগুলোই আমাদের কাছ থেকে ২,১০০ থেকে ২,২০০ টাকা নিচ্ছে। এর সাথে পরিবহন খরচ ও শ্রমিকদের মজুরি যোগ করলে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করব কীভাবে? কোম্পানি পর্যায়ে সরকার দর নির্ধারণ কার্যকর করতে না পারায় ভোক্তা পর্যায়ে দাম অনিবার্যভাবেই ২,৪০০ টাকায় গিয়ে ঠেকছে।”

অক্টোবর মাসের জন্য বেসরকারি এলপিজির খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১৫৩.০৬ টাকা (ভ্যাটসহ) নির্ধারণ করেছে বিইআরসি, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১৩২.০৮ টাকা। ফলে অন্যান্য সাইজের সিলিন্ডারের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ৫.৫ কেজির সিলিন্ডার ৮৪২ টাকা, ১২.৫ কেজি ১,৯১৩ টাকা, ১৫ কেজি ২,২৯৬ টাকা, ২০ কেজি ৩,০৬১ টাকা এবং ৪৫ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৬,৮৮৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ১১.৫৩ টাকা বাড়িয়ে ৮৪.৬২ টাকা করা হয়েছে। আর রেটিকুলেটেড পদ্ধতির এলপিজির দাম তরল অবস্থায় প্রতি কেজি১৪৯.৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ‘এলপি গ্যাস লিমিটেড’-এর ১২.৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৭৬.৯৩ টাকায় অপরিবর্তিত থাকলেও বাজারে তাদের মাত্র ২ শতাংশের কম শেয়ার থাকায় সাধারণ গ্রাহকরা এর সুবিধা পাচ্ছেন না।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধিকেই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ বলছে বিইআরসি। সেপ্টেম্বরে প্রোপেন ও বিউটেনের গড় সৌদি সিপি (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) প্রতি মেট্রিক টন ৬৪৭.৭৫ ডলার থেকে বেড়ে অক্টোবরে ৭১২.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিইআরসি বটলিং কোম্পানিগুলোকে সঠিক ভ্যাট চালান প্রদান এবং পোস্ট-বটলিং মূল্যসীমা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা সরকারের প্রতি বাজারের প্রকৃত চাহিদা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে আমদানির পথ সুগম করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে অস্থির এই জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হতে পারে।