সোমবার ৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
পরিকল্পিত নগরায়ণে জেলা ও সিটি করপোরেশনে নতুন মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তীব্র সংকটের মাঝেই বাড়ল এলপিজির দাম, খুচরা বাজারে অস্থিরতা জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার: রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য নীতির ওপর দায় চাপাচ্ছেন মার্কিন নাগরিকরা প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে সম্মত বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া ৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু হলো ‘রভি-দৃষ্টি ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’ রপ্তানি বাড়ছে, ভরসা এখনো পোশাকে—বৈচিত্র্যের নতুন ইঞ্জিন কি তৈরি হচ্ছে?<gwmw style="display:none;"></gwmw> তৃতীয় দফায় ৪ অক্টোবর ৭,৬৪১ গ্রাহককে ২৬.৩৭ কোটি টাকা দিচ্ছে আইডিআরএ<gwmw style="display:none;"></gwmw> ডেঙ্গু মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৫ লাখ টেস্ট কিট দিল যুক্তরাষ্ট্র

তীব্র সংকটের মাঝেই বাড়ল এলপিজির দাম, খুচরা বাজারে অস্থিরতা

ঢাকা, ৫ অক্টোবর (বিডিইকোনমি): দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট ও হাহাকারের মাঝেই এলপিজির (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংস্থাটি ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে।

তবে বিইআরসি নতুন যে মূল্য ঘোষণা করেছে, বাজারচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফিল্ড রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, খুচরা বাজারে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২,২০০ টাকা থেকে ২,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ১,০০০ টাকা পর্যন্ত বেশি। অনেক এলাকায় বাড়তি দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এলপি গ্যাস লিমিটেড (এলপিজিএল) ১২.৫ কেজির সিলিন্ডার ৭৭৭ টাকায় বিক্রি করলেও বাজারে তাদের সরবরাহ মাত্র ২ শতাংশেরও কম। ফলে ৯৮ শতাংশের বেশি গ্রাহক বেসরকারি ডিস্ট্রিবিউটরদের জিম্মি দশায় পড়েছেন।

সংকট মোকাবিলায় গত শনিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এলপিজি আমদানিকারকদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করেন। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেন—বাজারে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না তা তদন্ত করে অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

খাত সংশ্লিষ্ট ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় পাইপলাইন গ্যাসের তীব্র ঘাটতির কারণে এলপিজির ওপর চাপ বেড়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক প্রায় ৪,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে মাত্র ২,৬০০ এমএমসিএফডি। পাইপলাইন গ্যাসের এই ঘাটতির ফলে হাজার হাজার গৃহস্থালি, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ছোট শিল্পকারখানা বাধ্য হয়ে এলপিজির দিকে ঝুঁকছে।

অন্যদিকে আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বমুখী দর ও অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়াকে দায়ী করছেন। সেপ্টেম্বরে সৌদি আরামকো প্রোপেন ও বিউটেনের কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) যথাক্রমে প্রতি টন ৬২৫ ডলার ও ৬৬০ ডলার নির্ধারণ করে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক শিপিং ফ্রেইট বা জাহাজ ভাড়া রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। বিইআরসি যেখানে প্রতি টন জাহাজ ভাড়া ১৬০ ডলার ধরে দর নির্ধারণ করেছে, সেখানে বর্তমানে প্রকৃত ফ্রেইট চার্জ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ ডলারে। এতে লোকসান এড়াতে অনেক বেসরকারি আমদানিকারক আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।

এলপিজি আমদানির তথ্য নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সরকারি হিসাবে দেখা গেছে, আগস্টে যেখানে ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল, সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। তবে ১ অক্টোবর বেশ কয়েকজন এলপিজি অপারেটর জ্বালানি বিভাগে চিঠি দিয়ে দাবি করেছেন আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। তাদের অভিযোগ, কিছু বড় আমদানিকারক বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব করছে। তারা এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বিইআরসির এই মূল্যবৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। তিনি বলেন, “খুচরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বিইআরসি দাম বাড়িয়ে কার্যত অসাধু সিন্ডিকেটের অবৈধ কারসাজিকে বৈধতা দিল।”

একইভাবে বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, পাইপলাইন গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় সরকার এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ালেও রাষ্ট্রীয় বাফার স্টক (মজুত) গড়ে তোলেনি বা কোনো মূল্য স্থিতিশীলতা তহবিল গঠন করেনি। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের প্রাইভেট কার্টেল ও আন্তর্জাতিক শিপিং মার্কেটের ওপর অনিশ্চিতভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সামনে শীত মৌসুমে বিশ্ববাজারে জ্বালানির চাহিদা আরও বাড়লে বাজার মনিটরিং ও আমদানি সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।