শুক্রবার ২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য নীতির ওপর দায় চাপাচ্ছেন মার্কিন নাগরিকরা প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে সম্মত বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া ৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু হলো ‘রভি-দৃষ্টি ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’ রপ্তানি বাড়ছে, ভরসা এখনো পোশাকে—বৈচিত্র্যের নতুন ইঞ্জিন কি তৈরি হচ্ছে?<gwmw style="display:none;"></gwmw> তৃতীয় দফায় ৪ অক্টোবর ৭,৬৪১ গ্রাহককে ২৬.৩৭ কোটি টাকা দিচ্ছে আইডিআরএ<gwmw style="display:none;"></gwmw> ডেঙ্গু মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৫ লাখ টেস্ট কিট দিল যুক্তরাষ্ট্র জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ শতাংশ, এসেছে ৮.৫৭ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমলেও নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখে প্রথম প্রান্তিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেন ৫ গুণ বেড়ে ১৪৩.৫৪ কোটি টাকায় উন্নীত, ১ অক্টোবর থেকে মিলবে নতুন সুবিধা: বাংলাদেশ ব্যাংক

অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য নীতির ওপর দায় চাপাচ্ছেন মার্কিন নাগরিকরা

ওয়াশিংটন, ২ অক্টোবর (বিডিইকোনমি): যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনীতি পরিচালনা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। এপি-এনওআরসি সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ওপর মার্কিন জনগণের আস্থা এ যাবৎকালের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে যা রিপাবলিকান পার্টির জনসমর্থনে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ পরিচালিত যৌথ জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ট্রাম্পের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নীতিকে সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে সামগ্রিক অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের সার্বিক কাজের প্রতি অনুমোদন রয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশের, যা তার প্রেসিডেন্ট মেয়াদের সর্বনিম্ন রেটিং।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, দাম বাড়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্ক নীতি এবং ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধই প্রধানত দায়ী। অর্থনৈতিক এই সংকটের দায় তারা ট্রাম্পের নীতির ওপরই বেশি চাপাচ্ছেন।

২০২৫ সালের মার্চ মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তার অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তার সূচক ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পারফরম্যান্স ‘প্রত্যাশার চেয়েও খারাপ’ ছিল। চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকান দলের অনেক সমর্থক ও ভোটারও। রিপাবলিকানদের অর্ধেকেরও বেশি (প্রায় ৬০%) ট্রাম্পের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নীতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ফুয়েল বা জ্বালানি তেল কেনার সামর্থ্য এবং দৈনন্দিন গ্রোসারি বা খাদ্যদ্রব্যের খরচ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া বাণিজ্য নীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অন্যান্য দেশের ওপর চড়াও হয়ে অতিরিক্ত শুল্ক বসানোকে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি বলে মনে করেন ৬৪ শতাংশ ভোটার। সামগ্রিকভাবে মাত্র ৩০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের সার্বিক কাজের প্রশংসা করেছেন এবং ৬০ শতাংশ মনে করছেন যে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ২০২২ সালে জো বাইডেনের মেয়াদে যখন মূল্যস্ফীতি রেকর্ড স্তরে ছিল, তখন অধিকাংশ ভোটার মহামারিসহ অন্যান্য বাহ্যিক কারণকে দায়ী করেছিলেন। তবে এবার ভোটাররা ট্রাম্পের প্রত্যক্ষ সিদ্ধান্তের প্রভাবকেই (যেমন অতিরিক্ত শুল্ক ও যুদ্ধ) চলমান মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগের জন্য সরাসরি দায়ী করছেন।