ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর (বিডিইকোনমি): দেশে সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) এর মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। গত ৯০ দিনের ব্যবধানে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক লেনদেনের আর্থিক মূল্য প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২৮ কোটি টাকা থেকে ১৪৩.৫৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
এই গতি ত্বরান্বিত করতে তাৎক্ষণিক মার্চেন্ট সেটেলমেন্ট, লেনদেন খরচ হ্রাস এবং ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (P2P) ফান্ড ট্রান্সফার চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পারফরম্যান্স মেট্রিক্স ও নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

আরিফ হোসেন খান জানান, চলতি বছরের জুন মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ লেনদেন হতো, যার মোট আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ২৮ কোটি টাকা। বর্তমানে গড় দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা ৩.৫ গুণ বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজারে দাঁড়িয়েছে এবং দৈনিক মোট লেনদেনের পরিমাণ পৌঁছেছে ১৪৩.৫৪ কোটি টাকায়।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা তাদের অ্যাপ ব্যবহার করে সারাদেশের প্রায় ৩৯ লাখ (৩.৯ মিলিয়ন) মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে কেনাকাটা ও বিল পরিশোধ করছেন। ক্যাশলেস সোসাইটি বা নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরণের একক বা প্রোপ্রাইটারি কিউআর কোড সরিয়ে সর্বজনীন বাংলা কিউআর ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন সুবিধা:
বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত করতে ১ অক্টোবর থেকে বেশ কয়েকটি প্রণোদনা ও পরিচালনগত পরিবর্তন কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করা লেনদেনের অর্থ সঙ্গে সঙ্গেই (ইনস্ট্যান্ট) বিক্রেতা বা মার্চেন্টের অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
এ ছাড়া অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যূনতম ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) তুলে দেওয়া হয়েছে এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ ফি (আইআরএফ) শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে মার্চেন্টদের লেনদেন খরচ ব্যাপকভাবে কমে আসবে এবং ব্যাংক ও এমএফএসগুলো নামমাত্র ফি কিংবা বিনামূল্যে বাংলা কিউআর সেবা দিতে পারবে।
পাশাপাশি, বাংলা কিউআরে ২০০০ টাকা পর্যন্ত মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করবে।
১ নভেম্বর থেকে চালু হচ্ছে P2P লেনদেন:
বাংলা কিউআরের আওতা বাড়াতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ইন্টার-ইনস্টিটিউশনাল পার্সন-টু-পার্সন (P2P) বা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন চালু হচ্ছে। এই ব্যবস্থার আওতায় একজন সাধারণ গ্রাহক অন্য কোনো গ্রাহকের কিউআর কোড স্ক্যান করে কিংবা পেমেন্ট অ্যাপে কিউআর কোডের ছবি আপলোড করে সরাসরি মুহূর্তের মধ্যেই অর্থ পাঠাতে পারবেন।
লেনদেন ব্যর্থ হওয়া সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে দ্রুত অর্থ ফেরতের (রিফান্ড) পদ্ধতিও জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বাংলা কিউআর লেনদেনে কোনো সমস্যা হলে গ্রাহকরা সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইন ১৬২৩৬ (16236) নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারবেন।