ঢাকা, ১৬ জুন (বিডিইকোনমি ডটনেট) — দেশের অর্থনীতিতে সুখবর দিয়ে বৈধ পথে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহে ধারাবাহিক ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে গত ১৫ জুন পর্যন্ত সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেকর্ড ৩ হাজার ৪৩৮ কোটি (৩৪.৩৮ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন।
আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয়ের এই পরিমাণ ১৮.৬১ শতাংশ বেশি, যা দেশের অর্থনীতির বাহ্যিক খাতকে দারুণভাবে চাঙ্গা করে তুলেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত সবশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪.৩৮ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮৯৮ কোটি (২৮.৯৮ বিলিয়ন) ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কেবল ১৫ জুন তারিখেই প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ৮ কোটি ২৫ লাখ (৮২.৫৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন।
এছাড়া, চলতি জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬২ কোটি (১.৬২ বিলিয়ন) ডলার। ২০২৫ সালের জুনের প্রথমার্ধে এর পরিমাণ ছিল ১৪৭ কোটি (১.৪৭ বিলিয়ন) ডলার। সেই হিসাবে মাসের ব্যবধানে (মাসভিত্তিক) রেমিট্যান্স প্রবাহে ৯.৭৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, অর্থবছর শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক ও শক্তিশালী প্রবাহ দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পারফরম্যান্সকে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি:
রেমিট্যান্সের এই চাঙ্গা ভাব এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পাওয়া বৈদেশিক তহবিলের ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস বা মোট রিজার্ভের অবস্থানে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ১৬ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক হিসাবের তথ্য অনুযায়ী:
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৭৬ কোটি (৩৫.৭৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মানদণ্ড ‘বিপিএম৬’ (BPM6) পদ্ধতি অনুযায়ী মঙ্গলবার দেশের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ৩ হাজার ১২১ কোটি (৩১.২১ বিলিয়ন) ডলার।
উল্লেখ্য, আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (BPM6) নির্দেশিত এই ফরম্যাটটি মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে থাকা তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য তরল (লিকুইড) রিজার্ভকে নির্দেশ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান রিজার্ভের এই শক্তিশালী অবস্থান দিয়ে দেশের পরবর্তী ৫ থেকে ৬ মাসেরও বেশি সময়ের নিয়মিত আমদানি বিল অনায়াসে মেটানো সম্ভব। এটি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে পুরোপুরি স্থিতিশীল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।