মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত ২০ দিনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত প্রত্যাহার ৩,২৪৫ কোটি টাকা ঢাকার বসুন্ধরায় সনির প্রথম অনুমোদিত ক্যামেরা সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে টাকা: বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ১৪তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাচ্ছে খানাপিনার অভ্যাস, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: গবেষণা কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এসডিজি অর্জনে গতি বৃদ্ধি ও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার দাবি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো তিতাস-২৮ কূপের গ্যাস, দৈনিক মিলবে ১২-১৩ এমএমসিএফডি

রেকর্ড ১৮.৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে রেমিট্যান্স ৩৪.৩৮ বিলিয়ন ডলার, রিজার্ভ বেড়ে ৩৫.৭৬ বিলিয়ন

ঢাকা, ১৬ জুন (বিডিইকোনমি ডটনেট) — দেশের অর্থনীতিতে সুখবর দিয়ে বৈধ পথে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহে ধারাবাহিক ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে গত ১৫ জুন পর্যন্ত সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেকর্ড ৩ হাজার ৪৩৮ কোটি (৩৪.৩৮ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন।

আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয়ের এই পরিমাণ ১৮.৬১ শতাংশ বেশি, যা দেশের অর্থনীতির বাহ্যিক খাতকে দারুণভাবে চাঙ্গা করে তুলেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত সবশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪.৩৮ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮৯৮ কোটি (২৮.৯৮ বিলিয়ন) ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কেবল ১৫ জুন তারিখেই প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ৮ কোটি ২৫ লাখ (৮২.৫৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন।

এছাড়া, চলতি জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬২ কোটি (১.৬২ বিলিয়ন) ডলার। ২০২৫ সালের জুনের প্রথমার্ধে এর পরিমাণ ছিল ১৪৭ কোটি (১.৪৭ বিলিয়ন) ডলার। সেই হিসাবে মাসের ব্যবধানে (মাসভিত্তিক) রেমিট্যান্স প্রবাহে ৯.৭৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, অর্থবছর শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক ও শক্তিশালী প্রবাহ দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পারফরম্যান্সকে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি:

রেমিট্যান্সের এই চাঙ্গা ভাব এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পাওয়া বৈদেশিক তহবিলের ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস বা মোট রিজার্ভের অবস্থানে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ১৬ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক হিসাবের তথ্য অনুযায়ী:

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৭৬ কোটি (৩৫.৭৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মানদণ্ড ‘বিপিএম৬’ (BPM6) পদ্ধতি অনুযায়ী মঙ্গলবার দেশের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ৩ হাজার ১২১ কোটি (৩১.২১ বিলিয়ন) ডলার।

উল্লেখ্য, আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (BPM6) নির্দেশিত এই ফরম্যাটটি মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে থাকা তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য তরল (লিকুইড) রিজার্ভকে নির্দেশ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান রিজার্ভের এই শক্তিশালী অবস্থান দিয়ে দেশের পরবর্তী ৫ থেকে ৬ মাসেরও বেশি সময়ের নিয়মিত আমদানি বিল অনায়াসে মেটানো সম্ভব। এটি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে পুরোপুরি স্থিতিশীল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আরও পড়ুন