মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ:
মেয়াদি আমানত ভাঙানো গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণে বিশেষ সুবিধা ঘোষণা ইসলামী ব্যাংকের ‘প্রমাণ দেখান’: ‘কোটি টাকার ঘুষের’ অভিযোগে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ আদ্-দ্বীন প্রধানের অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সরাসরি পণ্য বিক্রির সুযোগ পেলেন রফতানিকারকরা: বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেওয়া সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত: এবিবি ইসলামী ব্যাংকে খুব শিগগিরই আসছে নতুন পরিচালনা পর্ষদ: ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বড় পদক্ষেপ: ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রশাসক নিয়োগ ব্যাংকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ রোধে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনীর অবিলম্বে বাস্তবায়ন জরুরি: সাবেক গভর্নর করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৩.৭৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব, বছরজুড়ে দেওয়া যাবে রিটার্ন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট: উন্নয়ন ধারা সচল, সংস্কার ও জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর

মেয়াদি আমানত ভাঙানো গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণে বিশেষ সুবিধা ঘোষণা ইসলামী ব্যাংকের

ঢাকা, ১৫ জুন (বিডিইকোনমি ডটনেট) — গ্রাহকদের আস্থা পুনর্গঠন ও চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে একটি বড় ধরনের জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। সাম্প্রতিক ব্যাংকিং অস্থিরতার জেরে আতঙ্কিত হয়ে যেসব আমানতকারী মেয়াদ পূর্তির আগেই তাদের সঞ্চয় ও মেয়াদি আমানত (টার্ম ডিপোজিট) ভেঙে লোকসান গুনেছেন, তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে একটি বিশেষ আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ব্যাংকটি।

সোমবার (১৫ জুন) ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এই বিশেষ সুবিধার কথা জানানো হয়।

সার্কুলার অনুযায়ী, চলতি জুন মাসের ১ তারিখ থেকে ১৫ তারিখের (১-১৫ জুন) মধ্যে যেসব গ্রাহক তীব্র আতঙ্কের মুখে তাদের বিভিন্ন মেয়াদি আমানত ও সঞ্চয় স্কিম—যেমন এমটিডিআর (MTDR), এমএসবি (MSB), এমএমপিডিএস (MMPDS) এবং এমএসএসএ (MSSA) অ্যাকাউন্ট মেয়াদ পূর্তির আগেই ভেঙে ফেলেছেন বা ক্যাশ আউট করেছেন, তারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য আগামী ৭ কার্যদিবসের একটি বিশেষ সময়সীমা বা উইন্ডো দেওয়া হয়েছে। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহকরা চাইলে তাদের বন্ধ হয়ে যাওয়া আমানত হিসাবগুলো পুনরায় চালু বা রি-ওপেন করতে পারবেন।

যদি কোনো গ্রাহক এই সময়সীমার মধ্যে অ্যাকাউন্ট পুনরায় সচল করেন, তবে উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্ট খোলার সমস্ত আনুষঙ্গিক ফি এবং প্রশাসনিক চার্জ মওকুফ করবে।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, পুনরায় চালু করা এই আমানত হিসাবগুলোকে এমনভাবে গণ্য করা হবে যেন এগুলো কখনোই বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় হয়নি (কন্টিনিউয়াসলি অ্যাক্টিভ)। এর ফলে আমানতকারীরা কোনো ধরনের কর্তন ছাড়াই তাদের আগের পূর্বনির্ধারিত মুনাফার হার (প্রফিট রেট) এবং চুক্তি অনুযায়ী সমস্ত সুযোগ-সুবিধা কোনো রকম বাধা ছাড়াই অবিচ্ছিন্নভাবে উপভোগ করতে পারবেন।

ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা ইসলামী ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং গ্রাহক-বান্ধব হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, দেশের বৃহত্তম এই শরিয়াহ-ভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানা ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে নানামুখী গুজব, তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এর ফলে হাজার হাজার সাধারণ গ্রাহক ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ভিড় জমিয়ে মেয়াদ পূর্তির আগেই তাদের সঞ্চয়ী স্কিমগুলো ভেঙে ফেলেন। এতে গ্রাহকদের বিপুল অঙ্কের জমানো মুনাফা হাতছাড়া হয় এবং তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি হস্তক্ষেপে ইসলামী ব্যাংকের বিতর্কিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর এবং আপদকালীন জরুরি তারল্য (লিকুইডিটি) সহায়তার জোগানের পর আমানতকারীদের মনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। মূলত গ্রাহকদের সেই আর্থিক ক্ষতি কমিয়ে আনা এবং তাদের আস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থাপনা সাধারণ গ্রাহকদের যেকোনো ধরনের অপপ্রচার বা যাচাইবিহীন গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই বিশেষ সুযোগ গ্রহণ করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি ব্যাংকের সাথে গ্রাহকদের সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী জন-আমানত সুরক্ষায় অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।